
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সেবা নিতে গিয়ে হয়রানি, দীর্ঘসূত্রতা এবং সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন আবেদনকারী। তাদের দাবি, অফিসকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে ‘চ্যানেল’ নামে পরিচিত একটি কথিত দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে। এই চক্রের মাধ্যমে কাজ করালে দ্রুত সেবা পাওয়া গেলেও সরাসরি আবেদন করতে গেলে নানা ধরনের জটিলতার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
আবেদনকারীদের কয়েকজনের ভাষ্য, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে অফিসে গেলে বিভিন্ন ত্রুটি দেখিয়ে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরে একই কাগজপত্র কথিত ‘চ্যানেল’-এর মাধ্যমে জমা দিলে সমস্যার সমাধান হয়ে যায় বলে তারা দাবি করেন। এ কারণে সরকারি প্রক্রিয়ায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ দালালের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকারি নির্ধারিত ফি ছাড়াও আবেদনভেদে কয়েক হাজার থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার কথা বলা হয়। জরুরি বা দ্রুত সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে এই অর্থের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলেও কয়েকজন অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অর্থ আদায় ও এর সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো নথি বা আর্থিক প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
অফিসকেন্দ্রিক কথিত অর্থ লেনদেন নিয়ে আরও কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা দাবি করেন, সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে কথিতভাবে আদায় করা অর্থ ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়। তবে এই দাবিরও স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এদিকে পাসপোর্ট অফিসের ভেতরে বহিরাগতদের চলাচল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সরেজমিনে জহির নামের এক ব্যক্তিকে অফিসের কম্পিউটারে পাসপোর্ট-সংক্রান্ত কাজ করতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তাকে পুলিশি সহায়তায় আটক করা হলে তার পরিচয় নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হয় বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ওই ব্যক্তি পরে নিজেকে কথিত দালালচক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে স্বীকার করেন। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধেও কথিত চক্রকে সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পাসপোর্ট অফিস সরাসরি তাদের প্রশাসনিক আওতাধীন নয়। তবে নাগরিকরা হয়রানির শিকার হলে অভিযোগ জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও দীর্ঘদিন ধরে পাসপোর্ট সেবায় ভোগান্তির অভিযোগ থাকার কথা জানিয়েছেন। তাদের মতে, অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে সেবাপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রবাসী অধ্যুষিত জেলা হওয়ায় পাসপোর্ট সেবার ওপর মানুষের নির্ভরতা বেশি। বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ অফিসে চাপও বাড়ছে। তাই দালালচক্রের অভিযোগ, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং অফিসের অভ্যন্তরে বহিরাগতদের প্রবেশের বিষয়গুলো যথাযথভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।
উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে। অভিযোগগুলোকে চূড়ান্ত বা প্রমাণিত সত্য হিসেবে বিবেচনা না করে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে বিষয়টি মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।