
নিজস্ব প্রতিবেদক:
নেত্রকোণায় সরকারি উদ্যোগের আওতায় ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী সাদিয়া আক্তারের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগের পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাকে আটক করে পুলিশ। তবে অভিযোগটি সত্য কি না এবং টাকা নেওয়ার সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কোনো বাস্তব সম্পর্ক ছিল কি না, তা এখনো যাচাই করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে নেত্রকোণা জেলা শহরের কুড়পাড় এলাকা থেকে সাদিয়া আক্তারকে আটক করা হয়। পরে পুলিশ তাকে নেত্রকোণা মডেল থানায় নিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা তৈরি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ করে বলে জানা গেছে।
আটক সাদিয়া আক্তার নেত্রকোণা সদর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির নেত্রকোণা জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কুড়পাড় এলাকার কয়েকজনকে সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের আওতায় কার্ড করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এ আশ্বাসের ভিত্তিতে প্রত্যেকের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এমন অভিযোগে মোট পাঁচজনের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা করে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সে হিসাবে অভিযোগে মোট ১৫ হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে কী উদ্দেশ্যে এই অর্থ নেওয়া হয়েছিল এবং এর সঙ্গে সরকারি ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে তারা সাদিয়া আক্তারকে আটক করে পুলিশকে খবর দেন বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ সেখানে গিয়ে তাকে হেফাজতে নিয়ে থানায় যায়।
এ বিষয়ে নেত্রকোণা এনসিপির সদস্যসচিব ফাহিম রহমান খান পাঠান বলেন, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে এখনো বিস্তারিতভাবে অবগত নন। তবে দলের কোনো সদস্য ব্যক্তিগতভাবে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তার দায় সংগঠন নেবে না বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, অভিযোগে বর্ণিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সাদিয়া আক্তারের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
নেত্রকোণা সদর সার্কেলের কর্মকর্তা সজল কুমার সরকার জানান, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে পাঁচজনের কাছ থেকে মোট ১৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগের তথ্য পুলিশ পেয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে টাকা নেওয়ার উদ্দেশ্য কিংবা অভিযুক্ত ব্যক্তির দায় সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
দাবি ও অভিযোগের বিষয়গুলো সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এবং পুলিশের প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে; তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।