বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৬ অপরাহ্ন

জুলাই জাদুঘর ঘুরে আবেগাপ্লুত রাষ্ট্রপতি, স্মরণ করলেন শহীদদের

  • প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন দেখতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে তিনি জাদুঘরে যান। সেখানে জুলাইয়ের বিভিন্ন ঘটনা, শহীদদের স্মৃতিচিহ্ন এবং আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নানা উপকরণ দেখে রাষ্ট্রপতি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, সকাল ১১টার দিকে রাষ্ট্রপতি ও তার সহধর্মিণী জাদুঘর প্রাঙ্গণে পৌঁছালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের স্বাগত জানান। পরে রাষ্ট্রপতি টিকিট সংগ্রহ করে জাদুঘরের ভেতরে প্রবেশ করেন। ‘লংওয়াক টু ডেমোক্রেসি’ নামে পরিচিত ওয়াকওয়ে ঘুরে তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার বিভিন্ন ঐতিহাসিক চিত্র ও উপস্থাপনা দেখেন।
পরিদর্শনের সময় ১৬ বছরের শাসনামলের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরার জন্য তৈরি করা স্মারক ও প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন তিনি। এর মধ্যে শহীদদের স্মরণে নির্মিত মেমোরিয়াল, রেপ্লিকা আয়নাঘর, বিডিআর ট্র্যাজেডি, শাপলা চত্বর, নির্যাতনের বিভিন্ন উপকরণ এবং জোরপূর্বক গুমের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভাগ ছিল বলে জানা গেছে।
জাদুঘরে সংরক্ষিত শহীদদের লেখা চিঠি ও বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন দেখার সময় রাষ্ট্রপতিকে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়। পরে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে দেশ মুক্ত হয়েছে এবং গণতন্ত্র ফিরে এসেছে বলে তিনি মনে করেন। তবে এই অর্জনের পেছনে অনেক বড় মূল্য দিতে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের প্রতি রাষ্ট্রের ঋণ কোনোভাবেই সহজে শোধ হওয়ার নয়। ভবিষ্যতে যেন দেশে এ ধরনের মর্মান্তিক ও নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই প্রত্যাশার কথাও তিনি জানান।
পরিদর্শনের একপর্যায়ে জাদুঘর প্রাঙ্গণে একটি বৃক্ষরোপণ করেন রাষ্ট্রপতি। এরপর মনসুন থিয়েটারে একটি সংক্ষিপ্ত প্রামাণ্যচিত্র দেখেন তিনি। এ সময় জাদুঘরে সংরক্ষিত বিভিন্ন দলিল, প্রদর্শনী ও ঐতিহাসিক তথ্য সম্পর্কে তাকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন গবেষণা দলের সদস্য জুবায়ের ইবনে কামাল ও ফারহান মাসুদ।
জাদুঘর পরিদর্শন শেষে রাষ্ট্রপতি পরিদর্শন বইয়ে নিজের মন্তব্য লেখেন। সেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরতে স্মৃতি সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের জাদুঘর ও ঐতিহাসিক দলিল ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা দিতে ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে জুলাই জাদুঘর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, আবরার ইলিয়াস, মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

শুক্র শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  

© ২০২৬ ক্রাইম এডিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট