
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
খুলনার পাইকগাছার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সহকারী জজ হিসেবে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি, একবারের ব্যর্থতা এবং পরবর্তী সময়ে নতুন করে চেষ্টা—সব মিলিয়ে তার এই অর্জন পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি করেছে।
১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে ২০০ জন প্রার্থী সহকারী জজ হিসেবে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে মেধাক্রমে আব্দুল্লাহ আল মামুনের অবস্থান ১৩৬তম।
পাইকগাছা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল্লাহ। তার বাবা মো. এনামুল হক লস্কর পাইকগাছা দাখিল মাদরাসার সহকারী মৌলভী এবং মা হ্যাপিয়ারা বেগম গৃহিণী। সাধারণ একটি পরিবার থেকে উঠে এসে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করে বিচার বিভাগে প্রবেশের সুযোগ পাওয়াকে পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল হিসেবে দেখছেন।
আব্দুল্লাহর শিক্ষাজীবনের শুরু মাদরাসায়। রাজশাহীর আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী থেকে দাখিল এবং গাজীপুরের টঙ্গীর তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা থেকে আলিম পাস করেন তিনি। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ‘খ’ ইউনিটে ১১তম এবং ‘ঘ’ ইউনিটে প্রথম স্থান অর্জন করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হয়ে এলএলবি সম্পন্ন করেন।
জুডিশিয়াল সার্ভিসে যাওয়ার পথটি অবশ্য সহজ ছিল না। প্রথমবার বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাননি তিনি। তবে ওই ব্যর্থতার পর প্রস্তুতি ছেড়ে দেননি। বরং আরও মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা ও পরীক্ষার প্রস্তুতি চালিয়ে যান। দ্বিতীয়বারের প্রচেষ্টায় সহকারী জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।
নিজের সাফল্যের বিষয়ে আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রায় আট বছর ধরে তিনি এই দিনের জন্য অপেক্ষা ও প্রস্তুতি নিয়েছেন। প্রথমবার সফল না হওয়ায় কষ্ট পেলেও হতাশ হননি। ধৈর্য ধরে পরিশ্রম চালিয়ে যাওয়ার ফলেই এবার কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পেয়েছেন বলে মনে করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই পথচলায় বাবা-মায়ের বিশ্বাস ও সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি জানান, নিজের স্বপ্ন পূরণের সক্ষমতা তার রয়েছে—এমন বিশ্বাস বাবা-মা সবসময় ধরে রেখেছেন। তাদের আস্থা তাকে কঠিন সময়ে এগিয়ে যেতে মানসিক শক্তি দিয়েছে।
সহকারী জজ হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত বিচার পাওয়ার সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা জানিয়েছেন আব্দুল্লাহ। বিচারপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে হতাশা তৈরি হতে পারে, তা কমাতে কাজ করার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ানো এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখাকে নিজের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
জুডিশিয়াল সার্ভিসে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আব্দুল্লাহর পরামর্শ, স্বপ্ন পূরণের জন্য নিয়মিত পরিশ্রমের পাশাপাশি ধৈর্য ধরে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। কোনো ব্যর্থতাকে চূড়ান্ত হিসেবে না দেখে নতুন করে প্রস্তুতি নেওয়ার মানসিকতা রাখতে হবে।
আব্দুল্লাহ আল মামুনের সহকারী জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার খবরে তার পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ দেখা দিয়েছে। মাদরাসার শিক্ষাজীবন থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা এবং পরে বিচার বিভাগে প্রবেশের এই যাত্রা স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।




