
এস এম মজনু, ঢাকা:
ঢাকার জেলা প্রশাসনের দায়িত্ব নেওয়ার পর জনসেবার মান, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। এরই ধারাবাহিকতায় উত্তরখান ভূমি অফিসে সাধারণ সেবাগ্রহীতার মতো উপস্থিত হয়ে দাপ্তরিক সেবার বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন বলে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত একটি প্রতিবেদনে জানা গেছে।
প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি ফরিদা খানম কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক পরিচয় প্রকাশ না করে উত্তরখান ভূমি অফিসে যান। সেখানে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে ভূমি-সংক্রান্ত সেবা নেওয়ার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন। উদ্দেশ্য ছিল, একজন সাধারণ নাগরিককে সেবা নিতে গিয়ে কী ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তা সরাসরি বোঝা।
বিশেষ করে নামজারি বা মিউটেশন সংক্রান্ত কার্যক্রম, সরকারি ফি, আবেদন ও সেবা গ্রহণের বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে তিনি খোঁজখবর নেন বলে ওই তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অফিসে সেবা নিতে আসা কয়েকজন সাধারণ নাগরিকের সঙ্গে কথা বলে তাদের অভিজ্ঞতা ও সমস্যার কথাও শোনেন তিনি।
সাধারণত কোনো সরকারি দপ্তরে পূর্বনির্ধারিত পরিদর্শন হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পান। ফলে নিয়মিত সময়ে একজন সাধারণ নাগরিক যে ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, সেটি সবসময় সরাসরি বোঝা সম্ভব নাও হতে পারে। এ কারণে আকস্মিকভাবে সাধারণ সেবাগ্রহীতার অবস্থান থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলে মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
প্রচারিত বিবরণে আরও বলা হয়েছে, পর্যবেক্ষণের একপর্যায়ে ফরিদা খানম নিজের পরিচয় প্রকাশ করেন। এরপর সাধারণ মানুষকে দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্তভাবে সেবা দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
ফরিদা খানম ২৫তম বিসিএসের কর্মকর্তা। ঢাকার জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের দায়িত্বেও ছিলেন। নতুন দায়িত্বে ভূমি প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেবার মান উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি তার কার্যক্রমে উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা যায়।
ভূমি অফিসে নামজারি, খতিয়ান সংশোধন, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য সেবা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এসব সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ, প্রক্রিয়াগত জটিলতা বা প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘাটতি থাকলে নাগরিকদের ভোগান্তি তৈরি হতে পারে। তাই মাঠপর্যায়ে সেবার বাস্তব চিত্র নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ঘটনার তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে এমন উদ্যোগ বাস্তবে নেওয়া হয়ে থাকলে, তা মাঠপর্যায়ের সেবা ব্যবস্থার দুর্বলতা ও নাগরিক অভিজ্ঞতা সরাসরি বোঝার একটি পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সরকারি দপ্তরে সেবা প্রদানের মান আরও উন্নত করতে নিয়মিত তদারকি ও নাগরিকদের অভিজ্ঞতা শোনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।




