Eng
জাতীয়, পঞ্চগড়, রংপুর, লিড নিউজ

চিকিৎসক সংকটে আটোয়ারী হাসপাতালে অস্ত্রোপচার বন্ধ দুই বছর

প্রকাশিত: , ১ অক্টোবর ২০২৬ | ৮:৫৬ অপরাহ্ণ




ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবল সংকটে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে চিকিৎসকের অনুমোদিত ৪০টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র পাঁচজন। একই সঙ্গে সার্জারি ও অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক না থাকায় প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার কার্যক্রম।
হাসপাতালটিতে আধুনিক অপারেশন থিয়েটার, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন এবং প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার সুবিধা রয়েছে। একসময় সেখানে সিজারিয়ানসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রোপচার নিয়মিত করা হতো। তবে ২০২৪ সালের শুরুর দিক থেকে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এখন প্রয়োজনীয় রোগীদের অন্য হাসপাতালে পাঠাতে হচ্ছে।
হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের শেষদিকে আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ানসহ বিভিন্ন অস্ত্রোপচার শুরু হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রায় দুই বছরে সেখানে শতাধিক সিজারিয়ানসহ মোট ২৫৫টি সার্জিক্যাল অপারেশন করা হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় বর্তমানে অপারেশন থিয়েটারটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
এদিকে চিকিৎসকস্বল্পতার কারণে বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগেও বাড়ছে চাপ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। জরুরি বিভাগে আরও প্রায় ১০০ থেকে ১২০ জন সেবা নেন। নির্ধারিত ৫০টি শয্যার বিপরীতে কোনো কোনো সময় ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১১০ জন পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তখন শয্যার সংকটে অতিরিক্ত রোগীদের হাসপাতালের বারান্দার মেঝেতেও চিকিৎসা দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়।
সরেজমিনে হাসপাতালটিতে রোগীদের ভিড় দেখা যায়। বহির্বিভাগে চিকিৎসকদের কক্ষের সামনে অপেক্ষমাণ রোগীদের দীর্ঘ সারি ছিল। সীমিতসংখ্যক চিকিৎসককে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক রোগী দেখায় তাদের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে টেকনিশিয়ান স্বল্পতাও রয়েছে। হাসপাতালে ডিজিটাল এক্স-রে ও আধুনিক পরীক্ষাগার থাকলেও পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় সীমিতসংখ্যক কর্মীকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। হাসপাতালটিতে জরুরি এক্স-রেসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও জনবলসংকটের কারণে সেবার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, আটোয়ারী ও আশপাশের এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের রোগীদের জন্য উপজেলা পর্যায়ে অস্ত্রোপচারের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অপারেশন বন্ধ থাকায় তাদের পঞ্চগড়সহ অন্য এলাকায় যেতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসার পাশাপাশি যাতায়াত ব্যয় ও সময়ও বাড়ছে বলে তারা জানান।
হাসপাতালের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হুমায়ুন কবীর জানান, অ্যানেস্থেসিয়া কনসালটেন্ট না থাকায় বর্তমানে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে জরুরি বিভাগে ছোটখাটো অস্ত্রোপচার, ড্রেসিং, কাটা-ছেঁড়ার চিকিৎসা ও সেলাইয়ের কাজ চালু আছে।
তিনি বলেন, অ্যানেস্থেসিয়া কনসালটেন্ট দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক পাওয়া গেলে অপারেশন থিয়েটারের কার্যক্রম পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে চিকিৎসক এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর ঘাটতির বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
ফলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগের পাশাপাশি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা অস্ত্রোপচার কার্যক্রম পুনরায় চালু করা গেলে আটোয়ারী ও আশপাশের এলাকার রোগীদের চিকিৎসার জন্য দূরের হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন কিছুটা কমতে পারে। তবে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় জনবল কবে পাওয়া যাবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।