
নিজস্ব প্রতিবেদক:
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের কায়ুকতো শহরে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হামলায় আরও অন্তত ৫৮ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয়ভাবে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশের সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় এ হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।
গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) কায়ুকতো শহরের একটি ব্যস্ত বাজারসংলগ্ন এলাকায় বিমান হামলার ঘটনা ঘটে। এলাকাটি রাখাইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এবং হামলার সময় সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। হামলার পর ধ্বংসস্তূপ ও ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা থেকে মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়।
স্থানীয় সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির দাবি, হামলায় ৫০ জন নিহত এবং অন্তত ৫৮ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় ত্রাণকর্মী ওয়েই হুন অংও হতাহতের এই সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়েছে।
হামলার পর প্রকাশিত বিভিন্ন ছবিতে ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে নারী ও শিশুসহ নিহতদের মরদেহ উদ্ধারের দৃশ্য দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
আরাকান আর্মির মুখপাত্র খাইং থুকা অভিযোগ করেছেন, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী পরিকল্পিতভাবে জনবহুল বাজার, স্কুল, আবাসিক এলাকা ও বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে মিয়ানমারের সামরিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ হামলা নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অতীতে দেশটির সামরিক বাহিনী বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সতর্ক থাকার দাবি করেছে।
ঘটনাটি নিয়ে জাতিসংঘের পক্ষ থেকেও উদ্বেগ জানানো হয়েছে। সংস্থাটির মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক নিউইয়র্কে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, রাখাইনে চলমান সহিংসতা সেখানে নিরাপদে রোহিঙ্গা ও অন্যান্য বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রত্যাবর্তনের উপযোগী পরিস্থিতি তৈরি হয়নি—এ বিষয়টি আবারও স্পষ্ট করেছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস হামলার নিন্দা জানিয়ে সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতা মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে জাতিসংঘ ও অন্যান্য ত্রাণকর্মীদের নিরাপদ ও বাধাহীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
২০২১ সালে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন ও অন্যান্য বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে সামরিক বাহিনীর সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। রাখাইন রাজ্যও এই সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক বিমান হামলার ঘটনাটি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। জাতিসংঘের বক্তব্য অনুযায়ী, রাখাইনে চলমান সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে সেখানে শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি।
হামলার দায়, লক্ষ্যবস্তু এবং হতাহতের বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য রয়েছে। আরাকান আর্মির অভিযোগের পাশাপাশি মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর অবস্থানও বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে হতাহতের সংখ্যা ও হামলার প্রকৃতি নিয়ে স্থানীয় উৎসের তথ্যের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের স্বাধীন যাচাইও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।



