Eng
চট্টগ্রাম, জাতীয়, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, লিড নিউজ

পিবিআই কর্মকর্তা পরিচয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগে যুবক আটক

প্রকাশিত: , ৫ অক্টোবর ২০২৬ | ৯:০৮ অপরাহ্ণ




ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্য পরিচয় দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা নেওয়ার অভিযোগে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। শরীফ উদ্দিন রেজভী নামে ৩২ বছর বয়সী ওই যুবককে রোববার বিকেলে উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের শ্যামবাড়ী এলাকা থেকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে খবর দেন।
পুলিশ জানায়, শরীফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলার বাদী ও বিবাদীদের কাছে গিয়ে নিজেকে পিবিআইয়ের কর্মকর্তা বা সদস্য পরিচয় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মামলার কাগজপত্র দেখিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন পক্ষে দেওয়ার কথা বলে তিনি টাকা নিতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আটক যুবক কসবা উপজেলার কুটি ইউনিয়নের রানিয়ারা বিষ্ণুপুর গ্রামের আবদুল বাতেন মিয়ার ছেলে। স্থানীয়দের সন্দেহের পর তার পরিচয় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে বিষয়টি নিয়ে নানা অসঙ্গতি সামনে আসে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শরীফ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মামলার কপি বা মামলার নথির ছবি সংগ্রহ করে সেগুলো প্রিন্ট করতেন। এরপর সংশ্লিষ্ট মামলার বাদী ও বিবাদীদের বাড়িতে গিয়ে নিজেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মামলা জিতিয়ে দেওয়া কিংবা তদন্ত প্রতিবেদন নিজের পক্ষে নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করতেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ঘটনার দিনও একটি মামলার কপি সঙ্গে নিয়ে শ্যামবাড়ী গ্রামে যান শরীফ। তার পরনে পুলিশের নেভি ব্লু রঙের প্যান্ট ও বুট জুতা ছিল বলে স্থানীয়রা জানান। তিনি একটি দোকানের সামনে গিয়ে এক ব্যক্তির ঠিকানা খুঁজছিলেন। তার আচরণে স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনজীবী নয়ন নাজিরসহ কয়েকজনের সন্দেহ হয়।
স্থানীয়রা তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে পিবিআইয়ের পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে সেটি দেখাতে না পারায় উপস্থিত লোকজনের সন্দেহ আরও বেড়ে যায়।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে শরীফ নিজেকে আদালতের একজন আইনজীবীর মুহুরি হিসেবে পরিচয় দেন। তবে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর সঙ্গে স্থানীয় আইনজীবী নয়ন নাজিরের পরিচয় থাকলেও শরীফ নামে কোনো মুহুরি তার সঙ্গে কাজ করেন না বলে জানা যায়। পরে মুহুরি হিসেবে পরিচয়ের প্রমাণ চাইলে কম্পিউটারে তৈরি একটি পরিচয়পত্র দেখানো হয় বলে স্থানীয়দের দাবি।
পুলিশের দাবি, পরে জিজ্ঞাসাবাদে শরীফ বিভিন্ন মামলার কপি বা ছবি সংগ্রহ করে সেগুলো প্রিন্ট করার কথা জানান। এরপর মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের আশ্বাস দিয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও উঠে আসে।
খবর পেয়ে কসবা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলী মোহাম্মদ রাশেদ জানান, শ্যামবাড়ী এলাকায় পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে স্থানীয়দের হাতে শরীফ উদ্দিন রেজভী আটক হন। পরে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে আসে। তার বিরুদ্ধে আইনগত বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।