Eng
জাতীয়, ঢাকা, রাজনীতি, লিড নিউজ

৩১ অক্টোবর কুষ্টিয়ামুখী লংমার্চ করবে ১১ দলীয় ঐক্য

প্রকাশিত: , ৫ অক্টোবর ২০২৬ | ৬:৩৮ অপরাহ্ণ




ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য কমানোসহ সাত দফা দাবিতে আগামী ৩১ অক্টোবর তৃতীয় দফায় লংমার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। ঢাকা থেকে খুলনা হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এ কর্মসূচি শেষ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সোমবার লংমার্চের প্রস্তুতি নিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। সভায় ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়কসহ জোটের বিভিন্ন দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, ৩১ অক্টোবর শনিবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চের সূচনা হবে। সকাল ৭টায় শুরু হতে যাওয়া ওই সমাবেশে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন। এরপর সকাল ৮টার দিকে গাড়িবহর পদ্মা সেতু হয়ে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পদ্মা সেতু পার হয়ে শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা এলাকায় প্রথম পথসভা হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর মাদারীপুর, ভাঙ্গা ও ফরিদপুর হয়ে গাড়িবহর গোপালগঞ্জের দিকে যাবে। পরে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালী মোড়ে পথসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এরপর রূপসা সেতু পার হয়ে খুলনা মহানগরীর বাবরী চত্বর বা শিববাড়ী মোড়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখান থেকে ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বরেও একটি পথসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে যশোরের চাচড়া মোড়ে পথসভা শেষে গাড়িবহর ঝিনাইদহের দিকে যাবে। ঝিনাইদহ শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বড় একটি পথসভা করার কথা জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
সবশেষে ঝিনাইদহ থেকে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করে রাত ৯টার মধ্যে কুষ্টিয়া জেলা স্কুল মাঠে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তবে সড়ক পরিস্থিতি ও অন্যান্য বাস্তব কারণে সময়ের কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
লংমার্চকে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল রাখার কথা জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কোনো ধরনের উসকানি বা অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি হলে কর্মীদের ধৈর্য ও সংযমের সঙ্গে তা মোকাবিলা করতে বলা হয়েছে। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের কোনো উসকানিতে পা না দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রশাসন, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, সড়ক পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, শ্রমিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। লংমার্চের রুটের সড়কগুলো চলাচলের উপযোগী রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিও আহ্বান জানানো হয়েছে।
লংমার্চের কারণে সাধারণ মানুষের সাময়িক ভোগান্তি হতে পারে উল্লেখ করে আয়োজকদের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে নজর দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
এর আগে ১০ অক্টোবর লংমার্চ আয়োজনের কথা থাকলেও শারদীয় দুর্গাপূজার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তারিখ পরিবর্তন করে ৩১ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়। আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, ধর্মীয় উৎসবের সময়ে মানুষের চলাচল ও ধর্মীয় কার্যক্রমকে বিবেচনায় রেখেই কর্মসূচির নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক কয়েকটি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ঘটনাতেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তার ও তার সঙ্গে আচরণ, কুষ্টিয়ায় এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
অটোরিকশা চালকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শ্রমজীবী ও পেশাজীবীদের ন্যায্য দাবির প্রতি তাদের সমর্থন রয়েছে। তবে ভাঙচুর, সহিংসতা কিংবা জনজীবনে বড় ধরনের দুর্ভোগ সৃষ্টি হোক, সেটি তারা চান না। অটোরিকশা চালকদের দাবিগুলো সরকারকে বিবেচনা করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
লংমার্চের সাত দফা দাবির মধ্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। আয়োজকদের দাবি, মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণে এসব দাবি সামনে রেখে কর্মসূচি আয়োজন করা হচ্ছে।