Eng
জাতীয়, ঢাকা, লিড নিউজ

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ১০২ গুণী শিক্ষক পেলেন সম্মাননা

প্রকাশিত: , ৫ অক্টোবর ২০২৬ | ৪:৫৩ অপরাহ্ণ




ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ১০২ জন গুণী শিক্ষককে বিশেষ সম্মাননা দিয়েছে সরকার। প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা শিক্ষকদের এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নির্বাচিত শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সম্মাননাপ্রাপ্ত প্রত্যেক শিক্ষককে দুই লাখ টাকা, একটি ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া এবং শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। এ ছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বক্তব্য দেন।
দুপুর ২টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলো থেকে পাঠ করা হয়। স্বাগত বক্তব্য ও অতিথিদের আলোচনার পর ধাপে ধাপে সম্মাননাপ্রাপ্ত শিক্ষকদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পরে নির্বাচিত শিক্ষকদের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
সরকারের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, এবারের সম্মাননার আওতায় প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষা এবং বিভিন্ন ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা রয়েছেন। এর পাশাপাশি চিকিৎসা, কৃষি, প্রকৌশল ও বিশেষায়িত উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রেও অবদান রাখা শিক্ষকদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সম্মাননা পাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়াত অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদকে মরণোত্তর সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. অরুণ কুমার বসাক এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের প্রয়াত অধ্যাপক ড. জামাল নজরুল ইসলামও সম্মাননার তালিকায় রয়েছেন।
চিকিৎসা শিক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য সাবেক ইএনটি সার্জন অধ্যাপক ডা. এম এ মাজেদকে মরণোত্তর সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। একই ক্ষেত্রে অধ্যাপক ডা. সায়েবা আক্তারও স্বীকৃতি পেয়েছেন।
প্রকৌশল ও কারিগরি শিক্ষায় অবদানের জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহজাহানকে মরণোত্তর সম্মাননা দেওয়া হয়। একই ক্যাটাগরিতে ড. এ বি এম হারুন-উর-রশিদও সম্মাননা পেয়েছেন।
এবারের তালিকায় বিশেষভাবে বিভিন্ন পর্যায়ে দীর্ঘদিন শিক্ষাসেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও রাখা হয়েছে। ১৯৭৪ সাল থেকে বিনামূল্যে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসা ‘এক টাকার শিক্ষক’ হিসেবে পরিচিত মো. লুৎফর রহমান সম্মাননা পেয়েছেন। পাশাপাশি ‘রমনী কান্ত পাঠশালা’র রমনী কান্ত বেপারী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষাদানে যুক্ত প্রয়াস ইনস্টিটিউট অব স্পেশাল এডুকেশনের সহকারী শিক্ষক মো. মোজাম্মেল হোসেন খানও স্বীকৃতি পেয়েছেন।
শিক্ষকদের চূড়ান্তভাবে নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার পৃথক বিচারক ও সার্চ কমিটি কাজ করেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্মাননাপ্রাপ্তদের নির্বাচন করা হয়েছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অবদান, নিষ্ঠা ও বিশেষ ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্তরের শিক্ষকদের একসঙ্গে সম্মান জানানোর মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থায় তাদের অবদানের প্রতি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিও তুলে ধরা হয়েছে।