
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারিক আদালতের কার্যক্রম দ্রুত শেষ হলেও উচ্চ আদালতে এসে এর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি। নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের পক্ষ থেকেও জেল আপিল করা হয়েছে। তবে এসব আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি এখনো শুরু হয়নি।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টে বর্তমানে অবকাশকালীন ছুটি চলায় হাইকোর্টের নিয়মিত কার্যক্রমও সীমিত রয়েছে। আগামী ২৫ অক্টোবর আদালতের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হলে মামলাটি শুনানির তালিকায় আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছেন, চলতি বছরের মধ্যেই মামলাটির আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষ করার সম্ভাবনা রয়েছে।
মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম অত্যন্ত স্বল্প সময়ে সম্পন্ন হয়েছিল। অভিযোগপত্র দাখিলের পর ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। এক পর্যায়ে একদিনেই মামলার ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করা হয়। পরে আত্মপক্ষ সমর্থন এবং রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক গ্রহণের পর আদালত রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন।
গত ৭ জুন ট্রাইব্যুনাল মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্না খাতুনকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, অর্থদণ্ডের অর্থ ভুক্তভোগী শিশুটির আইনগত উত্তরাধিকারীরা পাওয়ার কথা।
এর আগে ১৯ মে রাজধানীর পল্লবী এলাকায় আট বছর বয়সী রামিসা নিখোঁজ হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে একটি ফ্ল্যাটের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে স্বজনরা ওই কক্ষ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন। মামলার অভিযোগে ধর্ষণ ও হত্যার কথা উল্লেখ করা হয়। ঘটনার পর শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্ত শেষে ২৪ মে সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এর আগে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে জবানবন্দি নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে মামলাটি দ্রুত বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
রায়ের পর ৯ জুন মামলার পূর্ণাঙ্গ নথি এবং মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর দ্রুত শুনানির জন্য পেপারবুকও প্রস্তুত করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট আইন কর্মকর্তার বক্তব্যে জানা গেছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টে বিশেষ বেঞ্চও গঠন করা হয়েছে।
তবে আসামিদের আপিলের আইনগত অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টিও মামলার পরবর্তী প্রক্রিয়ায় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, আইন অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপিলের সুযোগ রয়েছে। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর মামলাটির শুনানি এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে হাইকোর্টে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ ইতোমধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় বেশ কয়েকটি আপিল ও ডেথ রেফারেন্স নিষ্পত্তি করেছে। রামিসা হত্যা মামলাটিও ওই বেঞ্চের শুনানির তালিকায় রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। আদালত কার্যক্রম শুরু হলে মামলাটি কখন শুনানির জন্য উঠবে, সেটিই এখন পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
মামলাটির দ্রুত বিচার নিয়ে শুরু থেকেই ব্যাপক আলোচনা ছিল। নিম্ন আদালতে অল্প সময়ে বিচার শেষ হওয়ার পর উচ্চ আদালতেও দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে কি না, তা নিয়ে এখন অপেক্ষা রয়েছে। তবে শুনানির নির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে চলতি বছরের মধ্যেই মামলাটির পরবর্তী ধাপ শেষ হবে কি না, তা আদালতের কার্যতালিকা ও শুনানির অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে।




