
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ দ্রুত পূরণের সুপারিশ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ে নৈতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে খাবারের মান ও পুষ্টিগুণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা ও সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মাহমুদা হাবিবা। এতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তি, সংসদ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।
বৈঠকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়। দীর্ঘদিন কোনো বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকলে প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রমে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে—এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে নৈতিক শিক্ষার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। কমিটি প্রাথমিক স্তরে নৈতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে। শিশুদের শিক্ষাজীবনের শুরুতেই নৈতিক মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীলতার চর্চা নিশ্চিত করার বিষয়টি এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে মনে করা হচ্ছে।
স্কুল ফিডিং বা মিড-ডে মিল কর্মসূচিতেও খাবারের মান নিয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দেওয়া খাবারে পুষ্টিমান ও গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি তাগিদ দেওয়া হয়। কোনো খাবারে নিম্নমানের উপাদান পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশও করেছে কমিটি।
বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তরের সম্ভাব্য বাজেট, ব্যয় পরিকল্পনা ও খাতভিত্তিক অর্থ বরাদ্দ নিয়ে আলোচনা হয়। ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সম্ভাব্য অর্থবছরের বিভিন্ন পরিকল্পনা কমিটির সামনে উপস্থাপন করা হয়।
আলোচনায় দেশের প্রতিটি শিশুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন বিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে উন্নয়ন ও পরিচালন খাতে বরাদ্দ অর্থ যথাযথভাবে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যয় হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
প্রাথমিক শিক্ষার মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নিতে সংসদীয় কমিটির সদস্যদের বিদ্যালয় পরিদর্শনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চলাকালে সরেজমিনে গিয়ে পাঠদান, শিক্ষার পরিবেশ ও অন্যান্য কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের বিষয়ে বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট, প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি এবং বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ইউনিটের কার্যক্রম ও পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কর্মকর্তারা তাদের পরিকল্পনা ও বাজেটসংক্রান্ত তথ্য কমিটির সামনে উপস্থাপন করেন।
প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে প্রশাসনিক কার্যক্রম জোরদার, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও ভর্তি নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা কার্যক্রমের মান পর্যবেক্ষণে সংসদীয় কমিটির এই সুপারিশগুলো গুরুত্ব পাবে বলে সংশ্লিষ্ট আলোচনায় উঠে এসেছে।




