Eng
অর্থনীতি, জাতীয়, ঢাকা, লিড নিউজ

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন, ডলারের চাপে

প্রকাশিত: , ৭ অক্টোবর ২০২৬ | ৪:৪৭ অপরাহ্ণ




ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে। শক্তিশালী মার্কিন ডলারের প্রভাবে বুধবার (৭ অক্টোবর) স্পট গোল্ডের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও নিম্নমুখী ছিল। বিনিয়োগকারীদের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সর্বশেষ বৈঠকের কার্যবিবরণীর দিকে।
বাংলাদেশ সময় বুধবার বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম দশমিক ৯৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১২২ ডলার ৭৩ সেন্টে নেমে আসে। একই সময়ে ডিসেম্বর সরবরাহের মার্কিন গোল্ড ফিউচারের দাম দশমিক ৯১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪৯ ডলারে দাঁড়ায়।
এদিন মার্কিন ডলার সূচকও দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। ডলারের মূল্য শক্তিশালী হওয়ায় অন্যান্য মুদ্রায় লেনদেন করা ক্রেতাদের জন্য ডলারে নির্ধারিত স্বর্ণের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। এর প্রভাব স্বর্ণের বাজারে বিক্রির চাপ বাড়াতে ভূমিকা রাখছে বলে বাজার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এখন বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে ফেডারেল রিজার্ভের সেপ্টেম্বরের বৈঠকের কার্যবিবরণী ঘিরে। সুদের হার নিয়ে নীতিনির্ধারকদের অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত জানতে ওই কার্যবিবরণীকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক দুর্বল কর্মসংস্থানের তথ্যের পর বাজারে ধারণা তৈরি হয়েছে, অক্টোবরের বৈঠকে ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে। তবে ডিসেম্বরের বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। বাজারভিত্তিক পূর্বাভাসে ডিসেম্বরের বৈঠকে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
সাধারণত সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি হয়। কারণ স্বর্ণ কোনো সুদ বা নির্দিষ্ট আয় দেয় না। ফলে সুদভিত্তিক সম্পদে বিনিয়োগের আকর্ষণ বাড়লে স্বর্ণের চাহিদায় প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণেই ফেডের সুদের হারসংক্রান্ত অবস্থান স্বর্ণের বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে স্বর্ণের দাম আরও বড় মাত্রায় কমে যাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় বাধা তৈরি করতে পারে। ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, বিভিন্ন দেশের সরকারি ঋণ নিয়ে উদ্বেগ, মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার প্রবণতা বাজারে মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে।
এদিকে বৈশ্বিক অর্থনীতি নিয়েও নতুন করে উদ্বেগের বিষয় সামনে এসেছে। দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ জ্বালানি মূল্য, বিভিন্ন দেশের সরকারি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগের সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
অন্যদিকে লন্ডন বুলিয়ন মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেওয়া বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের একটি পূর্বাভাসে আগামী ১২ মাসে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৫ হাজার ১৩ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে। তবে এটি বাজারের একটি পূর্বাভাস, নিশ্চিত মূল্য নয়।
চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও স্বর্ণ কেনার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। সেপ্টেম্বরে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বর্ণের মজুত বাড়িয়েছে। এর ফলে টানা ২৩ মাস স্বর্ণ কেনার ধারাবাহিকতা বজায় থাকার তথ্য সামনে এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ধরনের চাহিদা দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।
শুধু স্বর্ণ নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও একই দিনে দর কমেছে। স্পট সিলভারের দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬০ ডলার ৩৬ সেন্টের কাছাকাছি নেমেছে। প্লাটিনামের দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৫০ ডলার ৪৫ সেন্ট হয়েছে। প্যালাডিয়ামের দামও ২ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১৪০ ডলার ৮৯ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।
স্বর্ণের বাজারে সাম্প্রতিক এই দরপতনের পেছনে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নিয়ে প্রত্যাশা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণ কেনা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তার কারণে সামনে বাজারের গতিপথ পরিবর্তিত হতে পারে।