Eng
খুলনা, জাতীয়, ঝিনাইদহ, লিড নিউজ

নিয়োগপত্র হাতে পেলেন মিশন, পাশে দাঁড়ালেন রাশেদ খান

প্রকাশিত: , ৭ অক্টোবর ২০২৬ | ৬:১৮ অপরাহ্ণ




ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

দীর্ঘ অপেক্ষা ও নানা জটিলতা পেরিয়ে অবশেষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র পেয়েছেন ঝিনাইদহের মিশন আচার্য। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে ঝিনাইদহ শহরের কলাবাগানপাড়ার ভাড়া বাসায় গিয়ে মিশন ও তার মা ময়না আচার্যের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।
নিয়োগপত্র হস্তান্তরের সময় জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমজাদ হোসেনসহ স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। এ নিয়োগের মধ্য দিয়ে শিক্ষক হওয়ার জন্য মিশনের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হয়েছে।
জানা যায়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত ও মৌখিক—দুই ধাপেই সফল হন মিশন আচার্য। তবে নিয়োগের চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় তার স্থায়ী ঠিকানা না থাকার বিষয়টি জটিলতা তৈরি করে। নিজের কোনো ভিটেমাটি না থাকায় নিয়োগ প্রক্রিয়াটি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়।
মিশন ঝিনাইদহ শহরের কলাবাগান এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তার পারিবারিক আর্থিক অবস্থাও ছিল বেশ সংকটপূর্ণ। পিতৃহীন মিশনের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে তার মা ময়না আচার্য অন্যের বাড়িতে কাজ করেছেন বলে জানানো হয়েছে। কঠিন আর্থিক ও পারিবারিক বাস্তবতার মধ্যেও পড়াশোনা শেষ করে সরকারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সফল হন মিশন।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তৈরি হওয়া জটিলতার বিষয়টি পরে বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনায় আসে। বিষয়টি রাশেদ খানের নজরে এলে তিনি মিশনের নিয়োগের ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মিশন আচার্যের নিয়োগ সম্পন্ন করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে জানানো হয়েছে।
বুধবার সকালে মিশনের বাসায় নিয়োগপত্র হস্তান্তরের সময় রাশেদ খান তার পরিবারের সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে মায়ের শ্রম ও ত্যাগের মাধ্যমে ছেলের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার মধ্য দিয়ে মিশন আচার্যের জীবনে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হলো। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করার সুযোগ পাওয়ায় দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটল তার। একই সঙ্গে কঠিন আর্থিক ও পারিবারিক পরিস্থিতির মধ্যেও শিক্ষাজীবন এগিয়ে নেওয়ার পর তার এই অর্জন স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নিয়োগপত্র হস্তান্তর অনুষ্ঠানে রাশেদ খান এমন মানবিক পরিস্থিতিতে সহযোগিতা করতে পারায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি পরিবারটির পাশে থাকার বিষয়েও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
মিশনের ক্ষেত্রে নিয়োগ প্রক্রিয়ার জটিলতা কাটিয়ে সরকারি চাকরিতে যোগদানের সুযোগ তৈরি হওয়ায় তার পরিবারেও স্বস্তি ফিরেছে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর হাতে পাওয়া নিয়োগপত্রটি তার জন্য শুধু একটি চাকরির নিশ্চয়তা নয়, বরং অনিশ্চয়তার মধ্য থেকে স্থিতিশীল জীবনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।