
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
রাজধানীর বাংলাদেশ সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ভবনটির দ্বিতীয় তলার বাথরুমের ওপরের সিলিংয়ে আগুন লাগে। তবে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।
ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি কর্মকর্তা রোজিনা আক্তারের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে সচিবালয়ের ভবনটিতে আগুন লাগার খবর পান তাঁরা। খবর পাওয়ার পর দ্রুত একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।
তিনি জানান, ৬ নম্বর ভবনের দ্বিতীয় তলার বাথরুমের ওপরের সিলিংয়ে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন। তবে ইউনিটটি পৌঁছানোর আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন।
তাৎক্ষণিকভাবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, কিংবা ভবনের কোনো সরঞ্জাম বা নথিপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ সচিবালয় রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক স্থাপনাগুলোর একটি। এখানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি বিভাগের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ফলে এ ধরনের স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিরাপত্তাব্যবস্থা ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
এর আগে ২০২৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর গভীর রাতে সচিবালয়ের একটি ভবনে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। রাত ১টা ৫২ মিনিটের দিকে শুরু হওয়া ওই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিটকে প্রায় ছয় ঘণ্টা কাজ করতে হয়।
ওই ঘটনায় ভবনটির চারটি তলায় থাকা পাঁচটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের নথিপত্র, কম্পিউটার এবং আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্ত দপ্তরগুলোর মধ্যে ছিল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়; সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়; ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ; যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
সেই অগ্নিকাণ্ডে আগুন নেভানোর কাজে অংশ নিতে গিয়ে ট্রাকের চাপায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্য মো. সোহানুর জামান নিহত হন। ঘটনাটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছিল।
এবারের ঘটনায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ, সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এবং নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পর্যালোচনায় স্পষ্ট হতে পারে।




