Eng
জাতীয়, নাটোর, রাজশাহী, লিড নিউজ

বনপাড়ায় দুর্ঘটনার সময় বাস চালাচ্ছিলেন সুপারভাইজার, দাবি যাত্রীদের

প্রকাশিত: , ২১ অক্টোবর ২০২৬ | ৯:৩৮ অপরাহ্ণ




ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় বাসটি কে চালাচ্ছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দুর্ঘটনার সময় বাসের চালকের আসনে সুপারভাইজার সোহেল রানা ছিলেন বলে দাবি করেছেন কয়েকজন আহত যাত্রী। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসটির চালক ও সহকারী তখন পেছনের আসনে ঘুমাচ্ছিলেন। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি পুলিশ। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানতে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোরে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। যাত্রীবাহী আরপি স্পেশাল পরিবহনের বাসটির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এতে ১২ জন নিহত হন। এ ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুর্ঘটনায় নিহত বাসটির সুপারভাইজার সোহেল রানার বয়স ছিল ৩৮ বছর। তাঁর বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ফরাদপুর গ্রামে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রায় দুই বছর ধরে বাসের সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করছিলেন। এর আগে তিনি বাস চালাতেন বলেও দাবি করেছেন তাঁর স্বজনেরা। তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে।

আহত যাত্রীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বাসটি সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বরগুনা থেকে যাত্রা শুরু করে। পরে পাবনার ঈশ্বরদীতে কিছু সময়ের জন্য বিরতি দেওয়া হয়। সেখানে বিরতির পর বাসটি আবার চলতে শুরু করলে চালকের আসনে বসেন সুপারভাইজার সোহেল রানা বলে দাবি করেছেন কয়েকজন যাত্রী।
দুর্ঘটনায় আহত চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাসিন্দা রমজান আলী (২৮) বনপাড়া পাটোয়ারী হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। তাঁর ভাষ্য, রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বাসটি ঈশ্বরদীতে পৌঁছায়। সেখানে একটি হোটেলে বিরতির পর মূল চালক তাঁর আসন ছেড়ে পেছনে চলে যান। এরপর সুপারভাইজার বাস চালাতে শুরু করেন। এ সময় চালক ও তাঁর সহকারী পেছনের আসনে ঘুমাচ্ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
রমজান আলীর বর্ণনা অনুযায়ী, প্রায় এক ঘণ্টা চলার পর বাসটি বনপাড়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসের যাত্রীদের মধ্যে হতাহত ও আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
বাসটির আরও দুই যাত্রী ইয়াকুব আলী ও আব্দুস সালাম দুর্ঘটনায় আহত হয়ে বনপাড়া পাটোয়ারী হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। তাঁরাও দাবি করেছেন, সংঘর্ষের সময় বাসটি চালাচ্ছিলেন সুপারভাইজার সোহেল রানা। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, মূল চালক ও তাঁর সহকারী তখন পেছনের আসনে ছিলেন।

অন্যদিকে, নিহত সোহেল রানার স্ত্রী ডলি বেগম জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী আগে বাস চালাতেন। প্রায় দুই বছর আগে তিনি সুপারভাইজার হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরিবারের এ বক্তব্যের সঙ্গে আহত যাত্রীদের বর্ণনায় কিছু মিল থাকলেও দুর্ঘটনার সময় বাসটি ঠিক কে চালাচ্ছিলেন, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম জানিয়েছেন, সংঘর্ষে বাসের চালক নিহত হওয়ায় দুর্ঘটনার সময় চালকের আসনে কে ছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অনুসন্ধানের মাধ্যমে দুর্ঘটনার প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনাটি ঘিরে বাস পরিচালনার দায়িত্ব, দীর্ঘ যাত্রায় চালকের বিশ্রাম এবং নিরাপদভাবে যানবাহন চালানোর বিষয়গুলো সামনে এসেছে। তবে তদন্তের ফল প্রকাশের আগে বাসটি কে চালাচ্ছিলেন কিংবা দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কারণ কী ছিল, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী বক্তব্যের মাধ্যমে এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যেতে পারে।