Eng
জাতীয়, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, রাজনীতি, লিড নিউজ

এমপির নির্বাচনী বক্তব্যে ইউএনওর হাততালি, ভাইরাল মন্তব্যে বিতর্ক

প্রকাশিত: , ২৪ অক্টোবর ২০২৬ | ৩:৩৯ অপরাহ্ণ




ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক বক্তব্য চলাকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম রব্বানী সরদারের হাততালি দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারি কর্মকর্তার নিরপেক্ষতা ও দায়িত্ব পালনের ধরন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইউএনওর দেওয়া বক্তব্যও নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান পীরগঞ্জ উপজেলার ৯ নম্বর সেনগাঁও ইউনিয়নের আমতলী শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির পরিদর্শনে যান। সেখানে উপস্থিত লোকজনের সামনে বক্তব্য দেন তিনি। বক্তব্যে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বর্তমান চেয়ারম্যান সাইদুর রহমানের নাম উল্লেখ করেন সংসদ সদস্য। একই সঙ্গে তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার জন্য উপস্থিত ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানান।
সংসদ সদস্যের বক্তব্যের সময় তার পাশে বসা ইউএনও গোলাম রব্বানী সরদারকে হাততালি দিতে দেখা যায় বলে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে। দুই মিনিটের বেশি সময়ের ওই বক্তব্যের বিভিন্ন পর্যায়ে তাকে করতালি দিতে দেখা যায়। বিশেষ করে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একজন সম্ভাব্য প্রার্থীর পক্ষে সংসদ সদস্যের আহ্বানের সময় কর্মকর্তার এমন আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সরকারি প্রশাসনের দায়িত্বশীল পদে থাকা একজন কর্মকর্তার রাজনৈতিক বক্তব্যের সময় এ ধরনের প্রতিক্রিয়া কতটা সংগত, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে। তবে ভিডিওতে দেখা আচরণের প্রেক্ষাপট ও পুরো ঘটনার বিস্তারিত বিবেচনা করেই এ বিষয়ে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

এদিকে, সমালোচনার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইউএনও গোলাম রব্বানী সরদার ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, ‘ইউএনও হচ্ছে নাউ ওয়ান অব দ্য বিএনপি লিডারস অব পীরগঞ্জ।’ তার এ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক আরও বিস্তৃত হয়।
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, যে দল সরকারে থাকে, তিনি সেই দলেরই নেতা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তার দল হচ্ছে সরকারি দল এবং তার আদর্শও সরকারি দলের আদর্শ। এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে ইউএনও আরও বলেন, তার বক্তব্যের ওই অংশটুকু আলাদা করে প্রচার করা হোক, যাতে তিনি সারা দেশে ভাইরাল হন। এ সময় তিনি নিজেকে পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করে সংসদ সদস্যের সঙ্গে প্রশাসনিক কাজের সম্পর্কের কথাও বলেন। এ বিষয়ে তার কাছে চিঠি রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু সায়েম সরকারি কর্মকর্তার এমন আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার বক্তব্য, একজন সংসদ সদস্য যখন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাচ্ছেন, তখন একজন ইউএনওর প্রকাশ্যে হাততালি দিয়ে সমর্থন জানানোর মতো আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। তার মতে, এ ধরনের ঘটনা সরকারি কর্মকর্তার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।

প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা, নির্বাচনী পরিবেশে তাদের আচরণ এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে দাপ্তরিক সম্পর্কের সীমারেখা—এ ঘটনাকে ঘিরে এসব বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে এমন দৃশ্যের প্রভাব কী হতে পারে, তা নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
তবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা জরুরি। ইউএনওর বক্তব্য এবং তার আচরণ নিয়ে ওঠা প্রশ্নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানা গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে।