Eng
অপরাধ, আইন-আদালত, জাতীয়, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, লিড নিউজ

সব সম্পদের বিনিময়েও মুক্তি চান অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক সাগর

প্রকাশিত: , ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | ৪:৪১ অপরাহ্ণ




নিজস্ব প্রতিবেদক:

নেত্রকোণার মদনে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণ ও গর্ভবতী করার অভিযোগে দায়ের করা আলোচিত মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। আগামী ১১ নভেম্বর এ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) নেত্রকোণা জেলা ও দায়রা জজ এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মামলার প্রধান অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর আদালতে নিজের সম্পদের পরিমাণ তুলে ধরে মুক্তির আকুতি জানিয়েছেন। বিচারকের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তার মাত্র ১২ শতাংশ জমি রয়েছে। একই সঙ্গে জীবনের সব সম্পদের বিনিময়েও গুরুতর এ মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন বলে মামলার শুনানিসংশ্লিষ্ট তথ্যে জানা গেছে।
শুনানির একপর্যায়ে অভিযুক্তপক্ষের আইনজীবী আনিসুর রহমান আপসের বিষয়ে কথা বলতে চাইলে বিচারক তাতে সম্মতি দেননি। বিচারক জানান, আপসের বিষয়ে তারা কখনো আলোচনা করেননি। ফলে মামলার বিচারিক কার্যক্রম নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যায়।
আদালতে শুনানির সময় ঘটনাস্থলের আশপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল কি না, তা জানতে চান বিচারক। জবাবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. নূরুল কবীর রুবেল জানান, ভুক্তভোগী শিশুটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

মামলাটিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হিসেবে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে। অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পরিচালিত ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ভুক্তভোগী শিশুর জন্ম দেওয়া নবজাতকের সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষক সাগরের ডিএনএ নমুনার ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিল পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার নথিতে এ পরীক্ষার ফলাফল পিতৃত্বের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এ ছাড়া তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। এসব নথি ও প্রমাণের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে। তবে মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. নূরুল কবীর রুবেল জানান, রায় ঘোষণার আগে মামলার গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক ধাপ হিসেবে যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে তিনি আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। তার দাবি, মামলার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে রাষ্ট্রপক্ষ সক্ষম হয়েছে। এ কারণে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে বলে তিনি প্রত্যাশা করছেন।
আগামী ১১ নভেম্বর রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত এ মামলার বিচারিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ঘটতে পারে। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তের চূড়ান্ত দায় ও শাস্তি নির্ধারণ করবেন আদালত।
প্রধান হেডলাইন: সব সম্পদের বিনিময়েও মুক্তি চান অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক সাগর