
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৮২ জন। নতুন মৃত্যু ও রোগী ভর্তির তথ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৪০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু অক্টোবর মাসেই প্রাণ হারিয়েছেন ১৬৪ জন। মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যুর তথ্য রয়েছে।
অন্যদিকে, চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এখন পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ২৩ হাজার ৬০৫ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের ভর্তি করা হয়েছে। এ সময়ে বিভাগভিত্তিক হিসাবেও রোগী ভর্তির সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্য।
ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৮১৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ৩১৩ জন, রাজশাহীতে ২১৭ জন, খুলনায় ২১৪ জন, বরিশালে ১৯৪ জন, রংপুরে ১১৬ জন এবং ময়মনসিংহে ৮৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে ঢাকা বিভাগের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালে ভর্তির চিত্র উঠে এসেছে। ফলে ডেঙ্গু মোকাবিলায় চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
ডেঙ্গু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার মতো প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ি, ছাদ, বারান্দা কিংবা আশপাশের পাত্রে পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশার বংশবিস্তার হতে পারে। তাই নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং জ্বর দেখা দিলে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বিশেষ করে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় রোগটি নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি আক্রান্তদের যথাসময়ে চিকিৎসার আওতায় আনা এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করাও গুরুত্বপূর্ণ।




