Eng
অপরাধ, লিড নিউজ

যুবলীগ নেতার প্রতিষ্ঠানকে দেড়শ কোটি টাকার কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশিত: , ২ নভেম্বর ২০২৬ | ১১:৩২ অপরাহ্ণ




নিজস্ব প্রতিবেদক:

লক্ষ্মীপুরের রামগতি-কমলনগর আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় দেড়শ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের কাজ অনৈতিকভাবে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা আবদুল হাইয়ের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড’-কে পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। লক্ষ্মীপুর জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এই কারসাজির অভিযোগ তুলেছেন রিমি নির্মাণ লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়েদুল হক সরকার। তিনি নিজেকে এই প্রকল্পের লিড পার্টনার হিসেবে দাবি করেছেন।

সূত্র বলছে, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা আবদুল হাই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর তার বিরুদ্ধে জুলাই হত্যাকাণ্ডসহ একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া অতীতে সন্ত্রাসবিরোধী বিভিন্ন মামলায় তিনি একাধিকবার কারাগারে ছিলেন। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানার বদরপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল হাই বর্তমানে ঢাকার পল্টন থানার শান্তিনগর এলাকায় বসবাস করছেন বলে জানা গেছে। তিনি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানার বদরপুর গ্রামের হাজী গুনাগাজী ব্যাপারী বাড়ির মো. ইউনূছ মিয়ার পুত্র। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, আবদুল হাই ৫ আগস্টের পর একাধিক সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় জেলে ছিলেন।

দরপত্রের নথিপত্র অনুযায়ী, সড়ক ও জনপথ বিভাগ লক্ষ্মীপুর-চর আলেকজান্ডার-সোনারপুর সড়কের কমলনগরের হাজিরহাট থেকে আলেকজান্ডারের আজাদনগর পর্যন্ত প্রায় ২৭ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে আড়াই ফুট প্রশস্তকরণের কাজের দরপত্র আহ্বান করে। এই প্রকল্পের কাজ যৌথ উদ্যোগে (জয়েন্ট ভেঞ্চার) পাওয়ার জন্য আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড ও রিমি নির্মাণ লিমিটেডসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। একশ ৪৬ কোটি ৪৭ লাখ ১১ হাজার টাকা দর দিয়ে যৌথভাবে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কাজটি পায় আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড ও রিমি নির্মাণ লিমিটেড। নিয়ম অনুযায়ী রিমি নির্মাণ লিমিটেডের লিড পার্টনার হিসেবে সব কার্যক্রম পরিচালনার কথা থাকলেও, জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম রহস্যজনক কারণে গত ১২ আগস্ট আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডকে এককভাবে কাজ করার অনুমতি প্রদান করেন। ভয়ংকর নজির দেখালেন মো. নজরুল ইসলাম।

রিমি নির্মাণ লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়দুল হক সরকার জানান, যৌথ উদ্যোগের এই প্রকল্পের সব চুক্তি বাতিলের জন্য তিনি বিভাগীয় বরাবর আবেদন করেছিলেন। কিন্তু নির্বাহী প্রকৌশলী নিয়ম উপেক্ষা করে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে আবদুল হাইকে কাজের অনুমতি দেন। তিনি বলেন, আবদুল হাইয়ের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এবং তাদের খুঁজে না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। তিনি আরও জানান, আবদুল হাই যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বিষয়টি তার বন্ধু বা সংশ্লিষ্ট কেউই শুরুতে তাকে জানাননি। বর্তমানে এমন একজন বিতর্কিত ব্যক্তির সঙ্গে ব্যবসা করা নিয়ে তিনি আপত্তি তুলেছেন এবং কাজটি পাওয়ার জন্য আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। কিন্তু তারা কোনো ধরনের যোগাযোগ স্থাপন করেনি। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব (পাওয়ার) দেওয়ার ঠিক ৪২ দিন অতিবাহিত হলেও আবদুল হাই যোগাযোগ করেননি। তিনি যে কেন্দ্রীয় যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, এমন তথ্য গোপন রেখে চুক্তিতে কাজে অংশগ্রহণ করেন। তার সঙ্গে আমার বন্ধুর মাধ্যমে সম্পর্ক হলে সেও আমাকে বলেনি যে আবদুল হাই কেন্দ্রীয় যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। আমাকে অভিযোগে এনে কী লাভ।

ওবায়দুল হক সরকারের অভিযোগ, আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম কারসাজি করে আবদুল হাইয়ের মাধ্যমেই কাজ করাচ্ছেন। যে ব্যক্তিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ চিঠি দিয়ে খুঁজে পাচ্ছে না, তিনি কীভাবে কাজ করছেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি এই অনৈতিক লেনদেনের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন। এছাড়া লিড পার্টনার হিসেবে কাজের মান রক্ষা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এতে চুক্তিপত্রের নিয়মবহির্ভূত হওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। মোটা অঙ্কের বিনিময়ে জুলাই হত্যার আসামির সঙ্গে ডিল করে সরকারের মেগা প্রকল্পে অনৈতিক পথ অবলম্বন করে কাজ করছেন। এটা সত্যিই সূক্ষ্ম কারসাজি ছাড়া কিছুই নয়।

এ বিষয়ে আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী আবদুল হাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে লক্ষ্মীপুর জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা যৌথ উদ্যোগে কাজ পাওয়ার পর ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। সেই চুক্তিনামায় সব বিষয় দেখার দায়িত্ব আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের ওপর ন্যস্ত ছিল। তাই নিয়ম অনুসারেই কাজ চলছে বলে দাবি করেন তিনি।