
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’ বা পরিকল্পিত আয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশিদ। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীকে সন্তুষ্ট করতে দলটির চাহিদা অনুযায়ী আসন দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন হারুনুর রশিদ।
সমাবেশে তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামীর ভোটের যে হিসাব সামনে এসেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তার ভাষ্য, দলটির ভোটের সংখ্যা অতীতের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ সময় তিনি জামায়াতের ভোটসংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বিভিন্ন মন্তব্য করেন।
হারুনুর রশিদের অভিযোগ, জামায়াতে ইসলামীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহী রাখতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষ থেকে দলটির চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন আসনে সমঝোতা করা হয়েছিল। তার দাবি, এ ধরনের সমঝোতা না হলে জামায়াত নির্বাচনে অংশ নিত না।
তবে আসন বণ্টন নিয়ে তার বক্তব্যের পক্ষে সমাবেশে কোনো বিস্তারিত নথি বা স্বতন্ত্র প্রমাণ তুলে ধরার তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি হারুনুর রশিদের রাজনৈতিক বক্তব্য ও অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
নির্বাচন ও রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়ে বক্তব্য
বক্তব্যে হারুনুর রশিদ বলেন, জামায়াতে ইসলামী পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতি চেয়েছে। পাশাপাশি গণভোটের দাবিও সামনে এনেছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এসব দাবি এবং নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন না হলে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ক্ষমতায় থাকার সময়সীমা নিয়েও মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা। তার ভাষ্য, ইউনূসের পক্ষে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা সম্ভব হবে না এবং তাকে দায়িত্ব ছাড়তে হবে।
হারুনুর রশিদ অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আসন নিয়ে সমঝোতার মাধ্যমে দলটির চাহিদা পূরণ করা হয়েছিল। তার দাবি, জামায়াতের পক্ষ থেকে যে আসনগুলোর তালিকা দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো নিয়েই সমঝোতা হয়। তবে এসব বক্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া সমাবেশের বিবরণে উল্লেখ করা হয়নি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএনপির পরাজয় হয়নি দাবি
সমাবেশে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএনপির নির্বাচনী ফলাফল নিয়েও কথা বলেন হারুনুর রশিদ। তিনি দাবি করেন, জেলায় বিএনপির পরাজয় হয়নি। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা নির্বাচনে হারেননি।
তার বক্তব্যে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষের পাশাপাশি রাজনৈতিক সমঝোতা ও নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে দলের অবস্থান উঠে আসে। নির্বাচনের ফলাফল, ভোটের হিসাব এবং আসন বণ্টন নিয়ে তার উত্থাপিত বক্তব্য রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ।
গোবরাতলা ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজিত এ সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, গোবরাতলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাসেম আলীসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
নির্বাচন, আসন সমঝোতা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান নিয়ে বক্তব্যটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন এসব বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে হারুনুর রশিদের অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।




