
নিজস্ব প্রতিবেদক, আন্তর্জাতিক:
ইসরায়েলে সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের পর সরকার গঠন নিয়ে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। নির্বাচনের ফলাফলে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় সরকার গঠন নিয়ে শুরু হয়েছে নানা হিসাব-নিকাশ। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশটির আরব দলগুলোকে বাদ দিয়ে একটি ‘বৃহত্তর জাতীয় সরকার’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে সংকট কাটানোর ৪ পথ। পর্দার আড়ালে সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা চলছে।
সোমবার লিকুদ পার্টির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, ইহুদি জনগণের বিশাল অংশ তার দল লিকুদকে এবং তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পছন্দ করেছে। তিনি আরও দাবি করেন যে, সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে না এমন যে কোনো দলের সাথে মিলে একটি শক্তিশালী সরকার গঠন করা এখন তাদের লক্ষ্য। তবে তিনি সরাসরি আরব দলগুলোর সাথে জোট গড়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে অভিযোগ তোলেন যে, তারা সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে এবং ইহুদি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব অস্বীকার করে। অথচ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছিলেন আরব দলগুলোর নেতারা, যদিও তারা হামাসকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে না। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরবর্তী সরকার পরিচালনার জন্যও আমাকে বেছে নিয়েছে।’। যদিও তাঁরা ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে আখ্যা দেয় না।
নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে ১২০ আসনের ইসরায়েলি পার্লামেন্টে নেতানিয়াহুর শিবির ৫৩টি আসন পেয়েছে, যার মধ্যে লিকুদ পার্টির আসন ২৭টি। অন্যদিকে গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। সরকার গঠনের জন্য আরব দলগুলোর পাওয়া ১৯টি আসন বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যদিও নেতানিয়াহু তাদের বাদ দিতে চাচ্ছেন, তবে বিরোধী জোটের নেতারা ইতিমধ্যে আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন জানিয়েছেন। নির্বাচনে তাঁর জোট সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। গত সপ্তাহের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের পর বিরোধী শিবিরের নেতাদের মধ্যে এটিই প্রথম বৈঠক।
পরিবর্তনপন্থী জোটের পরবর্তী কর্মপন্থা ঠিক করতে মঙ্গলবার সকালে হার্জলিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছেন জোটের নেতারা। বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও বিরোধী দলের সব নেতা এখন পর্যন্ত আইজেনকটের পক্ষেই ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা দিয়েছেন। এদিকে আরব দলগুলোও ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তারা শেষ পর্যন্ত আইজেনকটকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। সব মিলিয়ে ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে সৃষ্ট এই অচলাবস্থা কতদিন স্থায়ী হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। তবে এ পর্যন্ত এসব আলোচনার বিস্তারিত খুব বেশি জানা যায়নি।




