Eng
জাতীয়, ঢাকা, লিড নিউজ

উল্টো পথে গাড়ি চালানো নিয়ে জুয়েলের বিরুদ্ধে সার্জেন্টের জিডি

প্রকাশিত: , ৪ নভেম্বর ২০২৬ | ১২:৩৯ অপরাহ্ণ




নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর আসাদগেট এলাকায় উল্টো পথে গাড়ি চলাচল এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কথাকাটাকাটির ঘটনাকে কেন্দ্র করে কনটেন্ট ক্রিয়েটর আহসান হাবীব জুয়েলের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন পুলিশ সার্জেন্ট মো. মহিউদ্দিন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার আংশিক ভিডিও প্রকাশ করে পুলিশ সদস্যকে হেয় করার অভিযোগে তিনি এ পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
গত ২ নভেম্বর পুলিশ কনট্রোল রুমে জিডিটি করা হয়। এর নম্বর ৬১। পরদিন মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বিষয়টি জানান সংশ্লিষ্ট পুলিশ সার্জেন্ট।
ঘটনাটি ঘটে রাজধানীর আসাদগেট এলাকায়। সিসিটিভি ফুটেজের বরাতে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি সাদা মাইক্রোবাস আসাদগেট পাম্প থেকে নিষিদ্ধ দিক দিয়ে সড়কে প্রবেশ করে। ওই স্থানে ‘রাস্তায় প্রবেশ নিষেধ’ লেখা একটি সাইনবোর্ড ছিল বলে জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনের ৮৭ ধারায় গাড়ির মালিক জুয়েলের নামে মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সার্জেন্ট মো. মহিউদ্দিন।
পুলিশ সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়িতে বিআরটিএর নম্বর প্লেট না থাকলেও মানবিক বিবেচনায় তিনি এ-সংক্রান্ত ৭২ ধারায় প্রসিকিউশন না দিয়ে ৮৭ ধারায় ব্যবস্থা নেন। তাঁর দাবি, এ সময় জুয়েল তাঁর ও সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।

সার্জেন্ট মহিউদ্দিনের অভিযোগ, প্রকাশিত ভিডিওতে ঘটনার পুরো চিত্র তুলে ধরা হয়নি। বিশেষ করে গাড়িটি উল্টো দিক দিয়ে আসার বিষয়টি সেখানে দেখানো হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর মতে, ভিডিওর উপস্থাপনায় দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের নেতিবাচকভাবে চিত্রিত করা হয়েছে। এতে ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সম্মান ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি পুলিশের দায়িত্ব পালন নিয়েও ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে।
এদিকে, নিজের প্রকাশ করা ভিডিও নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর আহসান হাবীব জুয়েল। তাঁর ভাষ্য, ঘটনাটি দীর্ঘ সময় ধরে চলেছিল এবং পুলিশ সদস্যরা তাঁকে একাধিকবার ভিডিও ধারণ বন্ধ করতে বলেছিলেন।
পুলিশ সার্জেন্টকে হেয় বা হয়রানি করার অভিযোগের বিষয়ে জুয়েল বলেন, এমন কোনো উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। তাঁর আচরণে ওই পুলিশ সদস্য কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের পরিশ্রমের কথাও উল্লেখ করেন।

ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ, সড়কে আইন প্রয়োগ এবং দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নাগরিকদের আচরণ নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের বাইরে ঘটনার সব দিক স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সড়কে ট্রাফিক আইন মেনে চলার পাশাপাশি দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের সঙ্গে শালীন আচরণ বজায় রাখার বিষয়টিও এ ঘটনা নতুন করে সামনে এনেছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ঘটনার ভিডিও প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক অংশসহ পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট তুলে ধরার গুরুত্বও আলোচনায় এসেছে।