
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মামলায় জামিন বাতিল ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মুখে পড়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। আইনি নির্দেশনার প্রেক্ষিতে তিনি আজ আদালতে হাজির হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ধার্য দিনে আদালতে উপস্থিত না থাকায় বিচারক এ আদেশ দেন। অসুস্থতার কারণে আইনজীবীর মাধ্যমে সময় চেয়ে আবেদন করলেও আদালত তা নামঞ্জুর করেছেন। এ বিষয়ে পরীমনি জানান, যেহেতু পরোয়ানা জারি হয়েছে, তাই তিনি অবশ্যই আদালতে উপস্থিত হয়ে নিজের অবস্থানের ব্যাখ্যা দেবেন। এরপর সঙ্গে আলাপে পরীমনি বলেন, ‘কালকে যাব কোর্টে, যেহেতু পরোয়ানা জারি করে ফেলেছে।’। তাঁর পক্ষে আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সময় চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে জানানো হয়, অ্যালার্জিজনিত সমস্যায় অসুস্থ থাকায় আদালতে আসতে পারেননি পরীমনি। পরীমনির আইনজীবী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দীর্ঘ সময় ধরে চলা আইনি প্রক্রিয়ার কারণে নিজের ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবনে চরম চাপের কথা তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। প্রায় পাঁচ বছর ধরে আদালতের বারান্দায় নিয়মিত যাতায়াত করতে হচ্ছে জানিয়ে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আইনি লড়াইয়ের এই পর্যায় কি সারা জীবনই চলবে? মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়েও নিজের অসন্তোষের কথা প্রকাশ করেছেন তিনি। তার অভিযোগ, মামলার তদন্ত যথাযথ হচ্ছে না, যার ফলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন বলে মনে করেন। পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন মামলায় আদালতে যাতায়াতের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথার একপর্যায়ে প্রশ্ন রাখেন, ‘এটা কি সারা জীবন চলবে?’। মামলা ও আদালতে নিয়মিত যাতায়াতের প্রভাব নিয়ে তিনি বলেন, ‘কাজের জায়গায় হচ্ছে, সংসারের জীবনে—সবকিছুর ওপরেই তো একটা চাপ। প্রায় এক মাস পর কারাগার থেকে মুক্তি পেলেও আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয়নি।
উলেখ্য, মামলাটির সূত্রপাত ২০২১ সালের জুন মাসে ঢাকা বোট ক্লাবের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে ঘিরে।
ওই ঘটনায় পরীমনি প্রথমে নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ অন্যদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনেছিলেন। পরবর্তীতে নাসির উদ্দিন মাহমুদ পরীমনির বিরুদ্ধে মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে পাল্টা মামলা করেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ২০২৪ সালের মার্চ মাসে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে, যেখানে পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। ওই সময় আদালত থেকে সমন পেয়ে তিনি আত্মসমর্পণ করে জামিন নিয়েছিলেন। নাসিরের অভিযোগ, বিনা মূল্যে মদের বোতল দিতে রাজি না হওয়ায় পরীমনি তাঁকে গালমন্দ করেন এবং গ্লাস ও মুঠোফোন ছুড়ে মারেন।
এর আগেও এই মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানার সম্মুখীন হয়েছিলেন তিনি। ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের দিন আদালতে অনুপস্থিত থাকায় পরোয়ানা জারি হয়েছিল, যা পরদিন আত্মসমর্পণ ও জামিন আবেদনের মাধ্যমে সুরাহা হয়। প্রায় পৌনে দুই বছর পর পুনরায় একই আইনি জটিলতায় পড়েছেন এই অভিনেত্রী। এছাড়া, ২০২১ সালের আগস্ট মাসে মাদক সংক্রান্ত পৃথক আরেকটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং রিমান্ড শেষে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
২০১৫ সালে ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় পরীমনির। এরপর ‘মহুয়া সুন্দরী’, ‘স্বপ্নজাল’ ও ‘গুণিন’-এর মতো চলচ্চিত্রে তার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। বর্তমান সময়ে গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ওয়েব ফিল্ম ‘সেপারেশন’-এর পাশাপাশি গত অক্টোবরে নতুন সিনেমা ‘ফারজানা’র ঘোষণা দিয়ে কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও, বারবার আদালতের দোরগোড়ায় হাজির হওয়া তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে। বোট ক্লাব সংক্রান্ত মামলাটিতে তিনি একদিকে যেমন বিচারপ্রার্থী, অন্যদিকে মামলার আসামি হিসেবেও আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।




