
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
বিয়ের মাত্র চার মাসের মাথায় দুর্গাপূজার উৎসবে এসে প্রাণ হারালেন তন্নি দে (২০) নামে এক নববধূ। বিজয়া দশমীতে বাবার বাড়িতে প্রথম দুর্গাপূজা উদ্যাপন করতে এসে প্রতিমা বিসর্জনস্থলে সিঁদুর খেলার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। এর মধ্যেই হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তার মৃত্যু হয়।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানার কুমিরা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন সার্বজনীন প্রতিমা বিসর্জনস্থলে এ ঘটনা ঘটে। উৎসবের আনন্দঘন পরিবেশে এমন আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে আসে কুমিরা গ্রামে।
তন্নি দে কুমিরা গ্রামের বাসিন্দা মহাদেব দের মেয়ে। প্রায় চার মাস আগে যশোরের কেশবপুর উপজেলার এক যুবকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর এবারই প্রথম বাবার বাড়িতে দুর্গাপূজা উদ্যাপন করতে এসেছিলেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে উৎসবের সময় কাটানোর মধ্যেই ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিজয়া দশমীর সন্ধ্যায় তন্নি তার ননদের সঙ্গে প্রতিমা বিসর্জনস্থলে যান। সেখানে সিঁদুর খেলার আয়োজনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিমার কপালেও সিঁদুর দেন তিনি।
অনুষ্ঠান চলাকালে একপর্যায়ে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করেন তন্নি। এরপর তিনি মাটিতে পড়ে যান। উপস্থিত স্বজন ও স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
তন্নির আকস্মিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে উৎসবস্থলে শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মেয়েকে হারিয়ে ভেঙে পড়েন বাবা মহাদেব দে ও পরিবারের অন্য সদস্যরা। আনন্দঘন ধর্মীয় আয়োজন মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নেয়।
তালা উপজেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ মজুমদার এবং স্থানীয় সূত্রে এ মৃত্যুর খবর জানা গেছে।
পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, বিসর্জনস্থলে এক নববধূর আকস্মিক মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পারে, তন্নি হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ বা সন্দেহ প্রকাশ করা হয়নি। স্বজনদের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তবে তন্নির মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাগত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করার পর তার মৃত্যু হলেও এর পেছনে কী কারণ ছিল, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।




