Eng
জাতীয়, ঢাকা, লিড নিউজ

অতিরিক্ত ডিআইজির ভাড়া বাসায় মাসে ২২টি ডিজে পার্টি

প্রকাশিত: , ২১ অক্টোবর ২০২৬ | ৭:০০ অপরাহ্ণ




নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীতে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া একটি বাড়িতে নিয়মিত ডিজে পার্টি আয়োজনের তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল থেকে বাড়িটিতে এসব আয়োজন চলছিল। প্রতি মাসে ২০ থেকে ২২টি পার্টি হতো এবং অনলাইনে নিবন্ধনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা সেখানে যোগ দিতেন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ডিএমপির গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ইলিয়াস কবির এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বাড়িটিতে অভিযান চালানো হয়।
ডিবির এই কর্মকর্তার বর্ণনা অনুযায়ী, অভিযানের সময় ভবনটিতে ডিজে পার্টি চলছিল। সেখানে প্রায় ২২টি গাড়ি দেখতে পান অভিযান পরিচালনাকারী সদস্যরা। ভবনের ভেতরে উচ্চ শব্দে গান বাজছিল এবং সীসা সেবনের কারণে ধোঁয়াচ্ছন্ন পরিবেশ ছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পার্টিতে উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ব্যাংকার ছিলেন। সেখানে ২৬ জন তরুণী উপস্থিত ছিলেন, যাদের অধিকাংশের বয়স ২০ থেকে ২২ বছরের মধ্যে বলে জানানো হয়। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রীও সেখানে ছিলেন বলে দাবি করেন ডিবির কর্মকর্তা।

অনলাইন নিবন্ধনে অংশগ্রহণ, জনপ্রতি ফি ৬০০ টাকা
ডিবির তথ্য অনুযায়ী, এয়ারবিএনবি ও ট্রাভেলা নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এসব আয়োজন করা হতো। অনলাইনে নিবন্ধন সম্পন্ন করে অংশগ্রহণকারীরা পার্টিতে যোগ দিতেন। প্রতিটি আয়োজনে একজন অংশগ্রহণকারীর কাছ থেকে প্রায় ৬০০ টাকা নেওয়া হতো বলে জানান উপ-পুলিশ কমিশনার ইলিয়াস কবির।
এ ছাড়া বাড়ি ভাড়া বাবদ অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তবে এসব আয়োজনের আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত বিবরণ কিংবা সংশ্লিষ্ট অর্থের পরিমাণ সম্পর্কে ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
অভিযানের সময় পুলিশ প্রবেশ করলে পার্টি বন্ধ হয়ে যায় এবং উপস্থিত ব্যক্তিরা ভবনের বিভিন্ন কক্ষে চলে যান বলে জানান ডিবির এই কর্মকর্তা। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভবনটিতে মোট পাঁচটি কক্ষ ছিল।
মাদক উদ্ধারের দাবি পুলিশের
অভিযান শেষে বাড়িটি থেকে তিনটি মদের বোতল, ইয়াবা ও কুশ নামের মাদকদ্রব্য উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ। এ ছাড়া যৌনস্বাস্থ্য-সংশ্লিষ্ট কিছু সামগ্রীও উদ্ধার করা হয়েছে বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।

উদ্ধার করা সামগ্রীর পরিমাণ, সেগুলোর পরীক্ষার ফলাফল এবং এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। ফলে উদ্ধার করা সামগ্রী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে তদন্তের ফলাফল বিবেচনা করা প্রয়োজন।
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
বাড়িটি থেকে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থার বিষয়ে ডিবির কর্মকর্তা জানান, পুরুষদের এক মাসের কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে তাঁদের অতিরিক্ত ১৫ দিন কারাভোগের আদেশ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, নারীদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও তিন দিন কারাভোগ করতে হবে বলে জানানো হয়।
তবে আটক ব্যক্তিদের সংখ্যা নিয়ে প্রকাশিত তথ্যে কিছু অসংগতি রয়েছে। অভিযানের বিষয়ে একটি তথ্যে ৮৪ জনকে আটকের কথা উল্লেখ করা হলেও পরবর্তী ব্রিফিংয়ের বিবরণে ৮৫ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

ঘটনাটি ঘিরে বাড়িটির ব্যবহার, ডিজে পার্টির আয়োজন, অর্থ লেনদেন এবং উদ্ধার করা সামগ্রীর বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য সামনে এসেছে। এসব বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ।