
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
সিলেট নগরের একটি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের পোশাক পরেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাঁকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশ।
অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার নাম উদয়ন ফারুক। তিনি সিলেট মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানায় কর্মরত ছিলেন। গত সোমবার রাতে নগরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আখালিয়া নতুনবাজার এলাকার ব্রাহ্মণশাসন সার্বজনীন পূজামণ্ডপে এ ঘটনা ঘটে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জানা গেছে, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ওই মণ্ডপে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন এএসআই উদয়ন ফারুক। একই সময়ে পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় পুলিশের নির্ধারিত পোশাক পরেই তিনি অনুষ্ঠানের মঞ্চে ওঠেন এবং মাইক্রোফোন হাতে গান পরিবেশন করেন।
ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওটি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের নজরে আসার পর তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
থানা থেকে প্রত্যাহার, তদন্তের উদ্যোগ
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সিলেট মহানগর পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। দায়িত্ব পালনের সময় এমন কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠায় এএসআই উদয়ন ফারুককে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। মঙ্গলবার এ বিষয়ে আদেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামসুল হাবিব ঘটনাটির বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় পুলিশের পোশাক পরেই ওই কর্মকর্তা গান গেয়েছিলেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।
ওসি আরও জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরবর্তী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দায়িত্ব পালনে পেশাদারত্ব নিয়ে আলোচনা
পূজামণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের অন্যতম কাজ। এমন দায়িত্ব পালনের সময় কোনো কর্মকর্তা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন কি না, তা নির্ধারণে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও কিংবা প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো ঘটনার সব দিক নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। দায়িত্ব পালনের সময় ওই কর্মকর্তার নির্ধারিত কাজের ওপর কী প্রভাব পড়েছিল এবং ঘটনাটির প্রেক্ষাপট কী ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার কথা।
এ ঘটনায় তাঁকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হলেও এটি চূড়ান্ত বিভাগীয় শাস্তি কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রতিবেদন এবং পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপরই তাঁর বিরুদ্ধে গৃহীত ব্যবস্থার চূড়ান্ত রূপ নির্ভর করবে।



