
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে মো. আসতারিফ হোসেনকে অপহরণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আসামির সংখ্যা ও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, আসতারিফকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় সেখানে প্রায় পাঁচজন ব্যক্তি ছিলেন। পরে স্থানীয়রা অটোরিকশাটি থামিয়ে দুজনকে আটক করেন। তবে মামলায় আসামি করা হয়েছে তিনজনকে। এ ঘটনায় বাকি ব্যক্তিদের পরিচয় ও তাদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা চলছে।
মামলার আসামিরা হলেন আজাদ আলী, সেলিম ও আল আমিন। তাদের মধ্যে আজাদ আলী ও সেলিমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামি আল আমিন পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় সিএনজিতে প্রায় পাঁচজন ছিলেন। স্থানীয়রা সেটি থামানোর পর দুজনকে আটক করতে সক্ষম হন। অন্যরা পালিয়ে যান বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ঘটনাস্থলে প্রকৃতপক্ষে কতজন ছিলেন এবং তাদের প্রত্যেকের ভূমিকা কী ছিল, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, স্থানীয়দের বর্ণনায় পাঁচজনের উপস্থিতির কথা থাকলেও মামলায় তিনজনের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ কী? ঘটনাস্থলে থাকা অন্য ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে কি না, কিংবা তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কোনো তথ্য পাওয়া গেছে কি না, তা নিয়েও স্পষ্টতা প্রয়োজন।
ঘটনার পর স্থানীয়দের হাতে দুজন আটক হওয়ার বিষয়টি সামনে আসায় তদন্তের বিভিন্ন ধাপ নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সিএনজিচালিত অটোরিকশাটির চালক কে ছিলেন, সেখানে অন্য কেউ ছিলেন কি না এবং সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে কি না, সেসব তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয় তদন্তে যাচাই করা হলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হতে পারে।
তবে মামলায় তিনজনের নাম থাকাকে কেন্দ্র করে অন্য কাউকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে, পুলিশের সঙ্গে কোনো সমঝোতা হয়েছে কিংবা কাউকে আড়াল করা হয়েছে—এমন কোনো অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে তদন্তের ফল সামনে আসার আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।
অন্যদিকে, অপহরণের অভিযোগে আহত মো. আসতারিফ হোসেনের শারীরিক অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তিনি বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা তাকে রাজশাহীতে পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তার বর্তমান অবস্থা নিয়ে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪১, ২২৩, ৩৭৯, ৩৬৪ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার অভিযোগের প্রকৃতি বিবেচনায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট আলামত যাচাইয়ের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে মামলায় অভিযোগ আনা মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং অপর আসামি পলাতক রয়েছেন। মামলাটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এখন তদন্তে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের সংখ্যা, তাদের পরিচয় এবং প্রত্যেকের ভূমিকা কতটা স্পষ্ট হয়, সেটিই দেখার বিষয়। পাশাপাশি স্থানীয়দের বর্ণনায় উঠে আসা অন্য ব্যক্তিদের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না, তাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে আসামির সংখ্যা নিয়ে তৈরি হওয়া প্রশ্নগুলোর জবাব মিলবে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের। তদন্তের অগ্রগতি ও প্রাপ্ত তথ্যই শেষ পর্যন্ত এ ঘটনায় প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে সহায়ক হবে।




