Eng
আইন-আদালত, জাতীয়, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, রাজনীতি, লিড নিউজ

শোকজের পরও প্রচার, শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ ইসির

প্রকাশিত: , ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ৮:৩৩ অপরাহ্ণ




ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার অভিযোগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জুলফিকার রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর আগে একই অভিযোগে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুসারে শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে তা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। একই সঙ্গে গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে কমিশনকে অবহিত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
গত ২৮ অক্টোবর নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়। অভিযুক্ত শিক্ষক জুলফিকার রহমান ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উপজেলার আরাজী দক্ষিণ বঠিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী) আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে বিভিন্ন নির্বাচনী কর্মসূচিতে অংশ নেন জুলফিকার রহমান। সেনুয়া ইউনিয়নে প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন এবং সেখানে বক্তব্য দেওয়ার ঘটনাও উঠে এসেছে চিঠিতে। এসব কর্মসূচির ভিডিও ধারণ করে নিজের ফেসবুক আইডিতে প্রকাশ করেন তিনি।
নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির অনুসন্ধানেও এসব কর্মকাণ্ডের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে কমিশনের চিঠিতে বলা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং কোনো প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। কমিশনের মতে, শিক্ষকের কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের বিষয়টি উঠে এসেছে।
এর আগে গত ১৩ অক্টোবর বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে জুলফিকার রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। জামায়াতে ইসলামীর ঠাকুরগাঁও পৌর যুব বিভাগের সভাপতি মো. রাজিউর রহমানের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।
পরে ১৯ অক্টোবর পীরগঞ্জ জজ আদালতের সিভিল জজ মো. তোসিকুল আলমের আদালতে লিখিত জবাব দেন ওই শিক্ষক। জবাবে তিনি নিজের কর্মকাণ্ডকে অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার অঙ্গীকার করেন। পাশাপাশি অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদনও জানান।
তবে লিখিত জবাব দেওয়ার পরও তার ফেসবুক আইডিতে দেওয়া একটি বক্তব্য নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির আদেশে বলা হয়েছে, তার ফেসবুক আইডি পর্যালোচনায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর ‘উপনির্বাচন ঠাকুরগাঁও-১, মির্জা ফয়সল আমিনকে ধানের শীষে ভোট দিন’ ক্যাপশনে একটি ভিডিও বার্তা পাওয়া যায়। ওই আসনে ৮ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দের পর প্রচার শুরুর কথা থাকলেও তার আগেই ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছিল বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।
কমিটির পর্যবেক্ষণে, এসব কর্মকাণ্ড সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর ২১(ক), ২১(খ) ও ১৮ বিধির লঙ্ঘন বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানান, গত বুধবার নির্বাচন কমিশনের চিঠি তারা পেয়েছেন। নির্বাচনী কার্যক্রমের ব্যস্ততার কারণে পরে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোফাজ্জল হোসেন বলেন, শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল এবং তার জানা মতে, তিনি জবাবও দিয়েছেন। তবে বিভাগীয় মামলা করার নির্দেশসংক্রান্ত চিঠি তিনি এখনো পাননি বলে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শিক্ষক মো. জুলফিকার রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার নতুন কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।