Eng
আন্তর্জাতিক, লিড নিউজ

দক্ষিণ ইরানে দফায় দফায় বিস্ফোরণ, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার খবর

প্রকাশিত: , ৩ নভেম্বর ২০২৬ | ৮:৪৫ অপরাহ্ণ




ক্রাইম এডিশন:

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে দক্ষিণ ইরানের কৌশলগত এলাকা হিসেবে পরিচিত কেশম দ্বীপ ও বন্দর লেঙ্গেহতে বেশ কয়েক দফা বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনী ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে এই হামলা চালিয়েছে। তবে এই বিস্ফোরণের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে মোট পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এছাড়া আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের বন্দর লেঙ্গেহতে সমুদ্র উপকূলের দিক থেকে বিকট শব্দ ভেসে আসে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা ইরানি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এখনো বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি।

মার্কিন কর্মকর্তারা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহ ধরেই ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুকে কেন্দ্র করে ছোট পরিসরে এসব সামরিক অভিযান চালানো হচ্ছে। এসব হামলাকে তারা ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে দাবি করেছেন যে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি বা জাহাজে হামলার সক্ষমতা অর্জন থেকে ইরানকে বিরত রাখতেই মার্কিন বাহিনী এই পদক্ষেপ নিচ্ছে।

ইরানে হামলার এই খবর এমন এক সময়ে এলো যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনাকে ছোট করে দেখছেন। সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ হয়েছিল এবং আমরা জিতেছি। তিনি আরও বলেন, কয়েক মাস ধরে কোনো লড়াই না হওয়ায় একে আদৌ যুদ্ধ বলা যায় কি না, তা নিয়ে তার সন্দেহ রয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার (২ নভেম্বর) সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ হয়েছিল।

তবে হরমুজ প্রণালি ঘিরে বিদ্যমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের খবর পাওয়া গেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশ বার্তা আদান-প্রদান করছে। এই যোগাযোগ সহজ করতে কাতারের মধ্যস্থতায় ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি দোহা সফর করেছেন বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন। মূলত হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষের সূচনা হয়। এর জবাবে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। পরে এপ্রিলে উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এর আগে ১৮ জুন হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিতে একটি সমঝোতা স্মারক সই করলেও, নিরাপত্তার প্রশ্নে মতবিরোধের কারণে সেই চুক্তির বাস্তবায়ন থমকে আছে।