Eng
জাতীয়, লিড নিউজ

আগামী বছর জাতীয় গ্রিডে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: , ৩ নভেম্বর ২০২৬ | ১:৩১ অপরাহ্ণ




অনলাইন ডেস্ক:

আগামী বছর জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকার কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর নির্ভর না করে এর খরচ কমানোর বিষয়েও জোর দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান তিনি। তিনি বলেছেন, ‘শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, খরচও কমাতে চায় সরকার।’। সবকিছু যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যায়, তবে ইনশাআল্লাহ আগামী গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ সংযোগ করতে সরকার সক্ষম হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিগত সরকারগুলোর সাফল্য বা ব্যর্থতা নিয়ে সমালোচনা করে সময় অপচয় না করে আগামী দিনের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করাই তাদের অগ্রাধিকার। গৃহস্থালি ও ব্যবসায়িক খাতে বিদ্যুৎ সংকট মেটাতে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। সৌরবিদ্যুৎ খাতকে জনপ্রিয় ও সহজ করতে ইতোমধ্যে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে রাজস্ব সুবিধা, কর ছাড় ও আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার বন্দোবস্ত রয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগোলে আগামী গ্রীষ্মের আগেই কাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত হবে। এই খাতে বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন নীতিগত সহায়তা, কর ও শুল্ক সুবিধা এবং আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।

দেশের বাসাবাড়ি, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও কারখানার খালি ছাদ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহারের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, নেট মিটারিং প্রক্রিয়ায় যারা নিজস্ব চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেবেন, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকার তাদের কাছ থেকে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দামে বিদ্যুৎ কিনে নেবে এবং বিশেষ প্রণোদনা দেবে। এবারের প্রদর্শনীর মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতে আয় বাড়াই’। সে ক্ষেত্রে নেট মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেম থেকে নিজস্ব ব্যবহার শেষে যারা বাড়তি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবেন, বিশেষ প্রণোদনাসহ সরকার ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে তাদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব আনতে সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে সরকারি-বেসরকারি খাতের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের ওপর জোর দেন তিনি। উদ্যোক্তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগীরা একযোগে কাজ করলে এই সাফল্য অর্জন সম্ভব বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশের প্রতিটি মানুষের সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মিরানা মাহরুখ। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারাও এতে অংশ নেন।