
ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে টানা তৃতীয় দিনের মতো শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে বলে জানা গেছে। এ পরিস্থিতিতে আন্দোলনের আড়ালে একটি পক্ষ অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মিরপুর এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আন্দোলনে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সদস্যদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আন্দোলনকে ঘিরে একটি বিশেষ মহল অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি। তাঁদের মধ্যে রাজনৈতিক দলের পদধারী নেতারাও রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।
শফিকুল ইসলাম খান বলেন, আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ইস্যু তৈরি কিংবা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার সুযোগ দেওয়া হবে না। তাঁর অভিযোগ, পরিস্থিতি অশান্ত করে আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হতে পারে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার কথা জানান তিনি।
শফিকুল ইসলাম খান বলেন, আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ইস্যু তৈরি কিংবা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার সুযোগ দেওয়া হবে না। তাঁর অভিযোগ, পরিস্থিতি অশান্ত করে আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হতে পারে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার কথা জানান তিনি।
তবে আন্দোলনে রাজনৈতিক দলের সদস্যদের সম্পৃক্ততা এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টার বিষয়ে প্রশাসকের বক্তব্যই এখানে তুলে ধরা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষ বা আন্দোলনকারীদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, মঙ্গলবার সকালে মিরপুর-১১ নম্বর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। বেতন বৃদ্ধি ও বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকরা সেখানে অবস্থান করছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে আনুমানিক ৭ থেকে ৮ হাজার শ্রমিক অবস্থান করছিলেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সড়ক থেকে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে অভিযান শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে।
শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবি ঘিরে চলমান এই আন্দোলনে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনজীবনে কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে সংঘর্ষে হতাহত, আটক কিংবা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে আলোচনা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে আন্দোলন ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ যাচাই এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাও প্রয়োজন।




