Eng
আন্তর্জাতিক, লিড নিউজ

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হওয়ার পথে হাকিম জেফরিস

প্রকাশিত: , ৪ নভেম্বর ২০২৬ | ১০:০২ অপরাহ্ণ



যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের পরবর্তী স্পিকার হিসেবে ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস। আগামী জানুয়ারিতে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হলে তিনি হবেন মার্কিন ইতিহাসে এই পদে আসীন প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নেতা। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বেই তাকে দলের ভেতরকার মতপার্থক্য এবং জটিল রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ২০১৩ সালে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পর থেকেই প্রবীণ কৃষ্ণাঙ্গ ডেমোক্র্যাট নেতাদের নজর কাড়েন জেফরিস। প্রয়াত কংগ্রেস সদস্য এডি বার্নি জনসন তার মধ্যে নেতৃত্বের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখেছিলেন এবং ন্যান্সি পেলোসির যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে তাকে গড়ে তোলার রূপরেখা তৈরি করেছিলেন।

স্পিকার নির্বাচিত হলে জেফরিসকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছরে বিরোধী দলীয় নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তার কৌশলগত লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের ওপর কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। এছাড়া তিনি প্রভাবশালী করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও বলিষ্ঠ অবস্থান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তার সম্ভাব্য নীতিমালার মধ্যে ধনীদের ওপর কর আরোপ, ন্যূনতম মজুরি বাড়ানো, সুপ্রিম কোর্টের জন্য কঠোর নৈতিকতা নীতিমালা প্রণয়ন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে। এছাড়া স্বাস্থ্যসেবার প্রসার এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোকেও তিনি তার এজেন্ডার কেন্দ্রে রেখেছেন। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দিতে চান তিনি।

তবে দলের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য বজায় রাখা জেফরিসের জন্য বড় পরীক্ষা। প্রগতিশীল ও তরুণ নেতাদের সাথে মেডিকেয়ার ফর অল বা ইসরায়েল ইস্যুতে তার মধ্যপন্থি মতাদর্শ নিয়ে কিছুটা অস্বস্তি রয়েছে। বিপরীতে, মধ্যপন্থি ডেমোক্র্যাটরা বিতর্ক পরিহার করে অর্থনৈতিক ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ইস্যুতে মনোযোগ দিতে আগ্রহী। দলের জ্যেষ্ঠতাভিত্তিক কাঠামো পরিবর্তনের লক্ষ্যে কমিটির চেয়ারম্যানদের মেয়াদসীমা নির্ধারণের যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তাও নেতৃত্ব কাঠামোয় বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। সব মিলিয়ে, দলের ভেতরের এই ভিন্নমতের স্রোত সামলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী বিরোধী জোট টিকিয়ে রাখাই হবে জেফরিসের নেতৃত্বের মূল পরীক্ষা। তবে দলের বামপন্থি ও তরুণ নেতাদের সমর্থন আদায় করা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। দলীয় নেতৃত্বে প্রজন্মগত পরিবর্তনের চাপও বাড়ছে।