
জাতীয় সংসদে লিখিত বক্তব্য পাঠ করা নিয়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিরোধী দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য লিখিত বক্তব্য পাঠ করায় স্পিকারের মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
সম্প্রতি এক ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে সাংবাদিক শারমিন চৌধুরী বলেন, সংসদে লিখিত বক্তব্য পাঠ করা নিয়ে দ্বৈত মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তার পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে বহু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সংসদে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেছেন, এমনকি রাষ্ট্রপতির ভাষণও লিখিত আকারে উপস্থাপন করা হয়।
সংসদ অধিবেশনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য, প্রয়াত দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর পুত্র মাসুদ সাঈদী লিখিত বক্তব্য পাঠ করলে স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম মন্তব্য করেন, সংসদে দেখে পড়ে বক্তব্য দেওয়া অনুমোদিত নয়; বরং হাউজের দিকে তাকিয়ে বক্তব্য রাখাই প্রচলিত রীতি। একইভাবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য অলিউল্লাহ লিখিত বক্তব্য পাঠ করলে তাকেও একই ধরনের মন্তব্য করা হয়।
এ ঘটনায় সাংবাদিক শারমিন চৌধুরী তার পোস্টে আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীসহ অনেক উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিও বিভিন্ন সময় লিখিত বক্তব্য থেকে পাঠ করে থাকেন। ফলে নির্দিষ্ট কিছু সদস্যের ক্ষেত্রে এ ধরনের মন্তব্য করা হলে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, অতীতেও অনেক সংসদ সদস্য লিখিত বক্তব্যের ওপর নির্ভর করেছেন। কেউ কেউ সরাসরি বক্তব্য দিতে গিয়ে বিভ্রান্তির মুখেও পড়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, লিখিত বক্তব্য থাকলে বক্তব্য আরও সুসংগঠিত ও নির্ভুলভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়।
তবে সংসদের প্রচলিত নিয়মের দিকটি তুলে ধরে কেউ কেউ বলেন, সরাসরি বক্তব্য দেওয়ার মাধ্যমে সংসদে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ও প্রাণবন্ত আলোচনা সম্ভব হয়। এজন্য অনেক সময় লিখিত বক্তব্যের পরিবর্তে সরাসরি বক্তব্য দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে এখনো সংসদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।