
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য এস্কাফসহ এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে, যিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যের আত্মীয় বলে অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় তার এক সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলের দিকে র্যাব-১৩ একটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের উত্তর বত্রিশ হাজারী এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় একটি বসতবাড়ির গোয়ালঘর থেকে সাদা প্লাস্টিকের ব্যাগে সংরক্ষিত অবস্থায় প্রায় ২০ বোতল নিষিদ্ধ এস্কাফ উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তির নাম ইলিয়াছ হোসেন ওরফে লিটন (৪৮) বলে জানা গেছে। তিনি লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলের আপন ভাইয়ের ছেলে—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের পক্ষ থেকে উঠে এসেছে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা সহযোগী আমিনুর রহমানকেও আটক করা হয় বলে র্যাব সূত্রে জানা গেছে।
র্যাব-১৩ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদক সংরক্ষণ ও বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। এর প্রেক্ষিতে নজরদারি চালিয়ে অভিযানে নামা হয়। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্টদের আটক করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে আটক ব্যক্তিরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
পরবর্তীতে আটক দুইজনকে জব্দকৃত আলামতসহ কালীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ বলছেন, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার হওয়ায় এ ধরনের ঘটনা সামনে আসছে, আবার কেউ কেউ পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং নিরপেক্ষ তদন্তই এই ঘটনার প্রকৃত চিত্র সামনে আনতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও জানিয়েছে, তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।