
কুমিল্লায় প্রায় একদিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান আহমেদকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। শুক্রবার (১২ জুন) রাতের দিকে কুমিল্লার লাকসাম জংশন এলাকায় স্থানীয় লোকজন তাকে দেখতে পেয়ে উদ্ধার করেন এবং চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, উদ্ধার হওয়ার সময় জিসান আহমেদের শারীরিক অবস্থা বেশ দুর্বল ছিল। পরে তাকে লাকসাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
আইনজীবী অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন গণমাধ্যমকে জানান, জিসান আহমেদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তার চিকিৎসা চলছে। তবে তার শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় একটি মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর জিসান আহমেদের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি রাতের দিকে তার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলে বাড়ি ফেরার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং তার সঙ্গে আর যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হলে বিভিন্ন স্থানে তার খোঁজ শুরু হয় বলে জানা গেছে। একই সময়ে তার ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টও অকার্যকর হয়ে যায় বলে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন।
নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতারাও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সংগঠনটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে জিসান আহমেদের দ্রুত সন্ধান এবং নিরাপদ উদ্ধারের দাবি জানিয়েছিলেন বলে জানা যায়।
শুক্রবার রাতের দিকে লাকসাম জংশন এলাকায় তাকে উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজ থাকার সময় তার সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া কী কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে, সেটিও এখনও স্পষ্ট নয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এ বিষয়ে দাউদকান্দি মডেল থানার তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, জিসান আহমেদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার পর তার কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। এদিকে জিসান আহমেদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন তার পরিবার, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং সংগঠনের নেতাকর্মীরা।