মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ০৫:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকায় গণমিছিলের ঘোষণা জামায়াতের কর্মসূচি লালমনিরহাটের কায়েম-রুদ্রেশ্বর সড়কে ধস, আতঙ্কে স্থানীয়রা এমপি হওয়ার পর বদলে গেছে জীবন, আবেগঘন মন্তব্য ডা. মাহমুদা মিতুর দায়িত্ব নিতে কেন প্রথমে না বলেছিলেন ড. ইউনূস রাতের নীরবতায় কেঁপে উঠলো দেশ, অনুভূত হলো ভূমিকম্প চিকিৎসা ব্যয়ে ৮২ লাখ টাকা প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা দিলেন সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা গুলশান থেকে সাবেক এমপি নুর মোহাম্মদ আটক বেনজীরকে দেশে ফেরাতে অপেক্ষায় বাংলাদেশ, আমিরাতের সিদ্ধান্ত এখনো বাকি চীন ও মালয়েশিয়া সফর শেষে আজ রাতে দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী জুয়া ও মাদকমুক্ত দেশ গড়তে কাজ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কাকিনার পরিচিত মুখ সোহেল মামা আর নেই, এলাকায় শোকের ছায়া

  • প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয়তাবাদী ধারার রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকা এবং কাকিনা ইউনিয়ন ওলামা দলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সোহেল আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) তিনি আজ বিকাল ৩ টায় দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এলাকাজুড়ে তিনি “সোহেল মামা” নামেই অধিক পরিচিত ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাধারণ মানুষের মাঝে গভীর শোক বিরাজ করছে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সোহেল শুধু রাজনৈতিক কর্মী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন না, বরং ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন। এলাকাবাসীর কয়েকজন জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি পাড়ার তরুণদের নামাজের প্রতি উৎসাহিত করতেন এবং নিয়মিত মসজিদমুখী করার চেষ্টা চালাতেন। বিশেষ করে ফজরের নামাজে কিশোরদের একত্রিত করে মসজিদে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি এলাকায় বেশ আলোচিত ছিল বলে জানা গেছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি ছিলেন তৃণমূলের একজন সক্রিয় সংগঠক। স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক সহকর্মী দাবি করেন, ২০১৩ ও ২০১৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার সরব উপস্থিতি দেখা যেত। অভিযোগ রয়েছে, বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তাকে বিভিন্ন সময় চাপ ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। তার ঘনিষ্ঠদের একজন বলেন, ভোরবেলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন কর্মসূচিতে সাহসিকতার সঙ্গে অংশ নিতেন সোহেল মামা। অনেক তরুণ কর্মীকেও তিনি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছিলেন বলে জানা গেছে।

দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে, কাকিনা ইউনিয়ন ওলামা দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। একাধিকবার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে স্থানীয় পর্যায়ে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কর্মসূচিকে সক্রিয় রাখতে কাজ করেছেন বলেও জানা গেছে। তার নেতৃত্বে ইউনিয়নের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হতো বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোহেল মামা দীর্ঘদিন ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। তার মৃত্যুর খবরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও শোক প্রকাশ করতে দেখা গেছে বহু সহকর্মী ও পরিচিতজনকে। অনেকে তাকে বিনয়ী, সাহসী ও ত্যাগী মানুষ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কয়েকজন রাজনৈতিক সহযোদ্ধা বলেন, সোহেল মামার মৃত্যুতে এলাকায় একজন নিবেদিতপ্রাণ সংগঠকের অভাব তৈরি হলো।

স্থানীয়দের দাবি, তিনি পরিবারের জন্যও ছিলেন অত্যন্ত দায়িত্বশীল একজন মানুষ। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ছোট ছোট সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসীর অনেকে। দেশ-বিদেশে অবস্থানরত পরিচিতজনরাও সামাজিক মাধ্যমে শোক প্রকাশ করে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করছেন।

এদিকে, তার মৃত্যুতে কাকিনা ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের ভাষ্য, শান্ত স্বভাব ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে “সোহেল মামা” নামটি এলাকায় দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© ২০২৫-২০২৬, ক্রাইম এডিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই সাইটের সমস্ত লেখা, ছবি ও কনটেন্ট কপিরাইট আইনের আওতায়। অনুমতি ছাড়া কপি, ব্যবহার বা পুনঃপ্রকাশ নিষিদ্ধ। স্বত্বাধিকার দাবি থাকলে অনুগ্রহ করে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। যথাযথ যাচাই-বাছাই ও প্রমাণ সাপেক্ষে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট অপসারণ করা হবে।

Theme Customized By BreakingNews