
নোয়াখালী সদর উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৫ জুন) জুমার নামাজের পর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাধের হাট বাজার এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সমর্থন এবং বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ব্যানারে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মিছিল শুরুর সময় পুলিশ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও পরবর্তীতে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে সরে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, জুমার নামাজ শেষে বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বাধের হাট বাজারে জড়ো হতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করেন। মিছিল শেষে সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফুল করিম চৌধুরী বাবু। তিনি বক্তব্যে দাবি করেন, তারা অন্যায়, সন্ত্রাস ও বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রাজপথে নেমেছেন। তিনি আরও বলেন, তাদের আন্দোলন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
আশরাফুল করিম চৌধুরী বাবুর দাবি, শুরুতে পুলিশের উপস্থিতির কারণে অনেক সমর্থক এলাকা ছেড়ে চলে গেলেও পরবর্তীতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতাকর্মী কর্মসূচিতে অংশ নেন। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থেকেই তারা এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করেছেন।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, পুলিশ আগে থেকেই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিল এবং ঘটনাস্থলে একাধিক টিম মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে উপস্থিত বিক্ষোভকারীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে সরে যান বলে তিনি জানান।
ঘটনার পর স্থানীয় এলাকাজুড়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনের নামে প্রকাশ্যে কর্মসূচি পালনের অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিতে পারে। তবে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের প্রকৃত সংখ্যা এবং ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরবর্তী সময়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে কি না, সে বিষয়েও এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য জানা যায়নি।