
হাম ও রুবেলা টিকা আমদানিতে অবহেলা এবং এর ফলে দেশে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি হওয়ার অভিযোগে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দায়েরের জন্য করা মামলার আবেদন গ্রহণ করেননি আদালত।
সোমবার (৮ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত মামলার আবেদনটি খারিজ করে দেন বলে জানা গেছে।
আদালতে মামলার আবেদনকারী ছিলেন কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। তিনি দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলাটি গ্রহণের আবেদন করেছিলেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী সালাউদ্দিন লস্কর সাংবাদিকদের জানান, মামলার আবেদনে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারাসহ একাধিক ধারা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে আদালত সংশ্লিষ্ট আইনগত বিষয় বিবেচনা করে আবেদনটি খারিজ করেছেন বলে তিনি জানান। আদেশের পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মামলার আবেদনে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল তারা হলেন সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব মো. সাইদুর রহমান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সায়েদুর রহমান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর।
আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত আবেদনকারী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল অভিযোগ করেন, হাম ও রুবেলার টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহে দীর্ঘসূত্রতার কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে। তার দাবি, টিকার ঘাটতির ফলে অনেক শিশু আক্রান্ত হয়েছে এবং মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা গেছে।
মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেশে শিশুদের জন্য নিয়মিতভাবে হাম ও রুবেলার টিকা সরবরাহের একটি প্রচলিত ব্যবস্থা ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের কারণে সেই প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হয় এবং পরবর্তীতে নতুন ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণ করতে গিয়ে দীর্ঘ সময় বিলম্ব ঘটে। এর ফলে টিকার সংকট দেখা দেয় বলে আবেদনে দাবি করা হয়।
আরও অভিযোগ করা হয়, আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষ থেকে সম্ভাব্য টিকা সংকটের বিষয়ে আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই সতর্কতার যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে দেশে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়।
মামলার নথিতে আরও দাবি করা হয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে বিপুল সংখ্যক শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনার দায় নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছিল।
তবে আদালত প্রাথমিক শুনানি শেষে মামলাটি গ্রহণ না করে আবেদন খারিজের আদেশ দেন। এ বিষয়ে আদালতের বিস্তারিত আদেশ প্রকাশের পর মামলার আবেদনকারীরা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।