
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে আইনজীবী শিশির মনির সম্প্রতি একটি ফেসবুক পোস্টে একাধিক প্রশ্ন ও দাবি উত্থাপন করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। তিনি দাবি করেন, হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের আদেশে তথ্যগত বিভ্রান্তি রয়েছে এবং এখানে হাসপাতাল ও প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স এক করে দেখা হয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতালের নামে যে লাইসেন্স বাতিলের কথা বলা হচ্ছে, সেটি আসলে হাসপাতালের নয়, বরং একটি প্যাথলজি ল্যাবরেটরির লাইসেন্স হতে পারে। তার ভাষ্যমতে, হাসপাতাল ও প্যাথলজির জন্য আলাদা দুটি লাইসেন্স নম্বর রয়েছে, যার মধ্যে একটি নম্বরকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাসপাতালের লাইসেন্সই বাতিল করা হয়েছে। অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং আদেশে স্পষ্টভাবে হাসপাতালের লাইসেন্স উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি হাসপাতালটির একটি ওয়ার্ডে একাধিক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে উঠে আসে। তদন্ত প্রতিবেদনে অক্সিজেন স্বল্পতা এবং ব্যবস্থাপনায় অবহেলাকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। এই ঘটনার পরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে শোকজ করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত আসে বলে দাবি করা হয়।
আইনজীবী শিশির মনির আরও বলেন, সরকার যে লাইসেন্স নম্বর উল্লেখ করেছে, তা হাসপাতালের নয় বলে তার দাবি। তিনি বিষয়টিকে প্রশাসনিক ভুল নাকি অন্য কোনো কারণ, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং বিষয়টি আরও স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার একজন পরিচালক জানান, আদেশে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের কথাই উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টা হচ্ছে, তবে নথিপত্র অনুযায়ী সিদ্ধান্ত সঠিক বলে তারা দাবি করেন। এছাড়া প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে আদেশ সংশোধনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে বলে জানা যায়।
অন্যদিকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, লাইসেন্স বাতিলের পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ পেয়ে থাকে। সেই অনুযায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চাইলে উচ্চ পর্যায়ে আবেদন করতে পারবে বলে আইনগত সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর জনমনে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে মন্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। কেউ কেউ বিষয়টিকে প্রশাসনিক জটিলতা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করছেন।
বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য আসায় পরিস্থিতি আরও আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।