
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের কারণে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। শুক্রবার চট্টগ্রাম সফরকালে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে জানা গেছে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দাবি, আওয়ামী লীগের বিষয়ে সরকারের অবস্থানে কিছুটা নমনীয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠন কীভাবে প্রকাশ্যে কর্মসূচি বা মিছিল করার সুযোগ পায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার স্বার্থে যেসব রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক কার্যক্রম জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করে, সেগুলোর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত সহিংস কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পাটওয়ারী বলেন, যারা দেশের জনগণের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনের আওতায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, কঠোর ও নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা সংঘাতের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল রাখতে সব পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন। গণতান্ত্রিক চর্চা শক্তিশালী করতে হলে আইন ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং সহিংসতা পরিহার করা জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে চট্টগ্রামের জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদরাসা সংলগ্ন দায়েম নাজির জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। নামাজ শেষে ধর্মীয়, সামাজিক এবং জাতীয় বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময়ে অংশ নেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সফরকালে দলের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎও করেন এনসিপি নেতারা। দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা এবং নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তারা মতবিনিময় করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়ে নানা বক্তব্য সামনে আসছে। এ ধরনের বক্তব্য নিয়ে সরকার বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মনে করছেন।