
ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নারীদের উচ্চশিক্ষা প্রসারে একটি নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি বলেন, সরকার ভবিষ্যতে ডিগ্রি বা অনার্স পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ চালুর বিষয়ে কাজ করছে। পাশাপাশি যেসব শিক্ষার্থী ভালো ফলাফল করবে, তাদের জন্য বিশেষ বৃত্তি বা স্কলারশিপ চালুর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হলো সমাজের বিভিন্ন স্তরে বিদ্যমান বৈষম্য কমিয়ে আনা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিক্ষা, কৃষি এবং শিশুদের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান। শিক্ষা খাতকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করতে বাজেট বৃদ্ধি এবং শিক্ষার মান উন্নয়নের বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে তিনি বলেন।
এছাড়া শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের মোট জিডিপির প্রায় পাঁচ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। একই সঙ্গে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য ধাপে ধাপে নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে আরও জানানো হয়, দেশের প্রায় ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও স্কুল ব্যাগ বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালমুখী করা এবং শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন।
কৃষি খাত নিয়েও সরকার নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিক করতে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা সম্প্রসারণের কাজ চলছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে প্রায় দুই কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে ‘কৃষক কার্ড’-এর আওতায় এনে ডিজিটাল সেবার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ানো এবং দেশীয় কৃষিপণ্যের নতুন আন্তর্জাতিক বাজার খুঁজে বের করার উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের কাঁঠাল চীনে রপ্তানির সম্ভাবনা নিয়েও সরকার কাজ করছে বলে উল্লেখ করা হয়।
পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেয়ারবাজারে অনিয়ম বা ক্ষতির জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তবে এসব পরিকল্পনা ও ঘোষণার বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্ট সরকারি সিদ্ধান্ত, নীতিমালা এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা। পরিকল্পনাগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কে ভবিষ্যতে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আরও বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।