
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সাভারে অনুষ্ঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর এক সমাবেশে বিস্ফোরণের ঘটনার পর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি দাবি করেন, ঘটনাটি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা উচিত। তবে তার এই বক্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।
সোমবার (৬ জুলাই) রাতে ঢাকা জেলার সাভার থানা স্ট্যান্ড ঈদগাহ মাঠে এনসিপির একটি রাজনৈতিক সমাবেশ চলাকালে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। ঘটনার সময় মঞ্চে বক্তব্য দিচ্ছিলেন ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ। বিস্ফোরণের শব্দে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেককে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। পরে মাইকে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়।
ঘটনার পর বক্তব্য দিতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সমাবেশস্থলের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার সুযোগে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি একটি পরিকল্পিত হামলা হতে পারে এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন বা সরকারি কোনো যাচাই তখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি।
তিনি আরও বলেন, সমাবেশে অংশ নেওয়া কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান।
নাহিদ ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, সমাবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া উচিত। তার দাবি, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং বিস্ফোরণের ঘটনাকে ঘিরে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর জনগণের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, এই ঘটনার পরও এনসিপির ঘোষিত রাজনৈতিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। দলটি তাদের বিভিন্ন দাবি, সংস্কার প্রস্তাব এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি তিনি নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির মতো কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশে উপস্থিত নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের ঘটনায় যারা জড়িত তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা উচিত। একই সঙ্গে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানানো হয়।
এদিকে বিস্ফোরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় বলে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ, বিস্ফোরণের ধরন এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। তদন্তের ফলাফল প্রকাশের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।