
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেছেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের পল্লী উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সোমবার (৬ জুলাই) সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক পল্লী উন্নয়ন দিবস এবং সিরডাপের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বলে জানা গেছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মন্ত্রী দাবি করেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হচ্ছে পল্লী উন্নয়ন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গ্রামীণ অবকাঠামো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের লক্ষ্য সামনে রেখে সরকার বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করছে। অভিযোগ উঠেছে, ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে নিম্নআয়ের ও প্রান্তিক মানুষের কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামীণ সমাজের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দারিদ্র্য হ্রাসেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, গ্রামীণ জনপদের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। স্থানীয় পর্যায়ে অবকাঠামো উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান তৈরির উদ্যোগকে আরও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে সিরডাপের কার্যক্রম নিয়েও বক্তব্য দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে পল্লী উন্নয়ন খাতে কাজ করে আসছে। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে উদ্যোক্তা তৈরি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় তাদের বিভিন্ন উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার বলে মন্তব্য করেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পল্লী উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পরিকল্পিত উদ্যোগ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্থানীয় সম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
আন্তর্জাতিক পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, গবেষক এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। অনুষ্ঠানে গ্রামীণ উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীলতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।