
নিজস্ব প্রতিবেদক, লালমনিরহাট:
বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে লালমনিরহাট শহরের এমটি হোসেন মাঠে আয়োজিত ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে জানা গেছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, তিস্তা নদীকেন্দ্রিক দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলন বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। তার দাবি, যেকোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং এর মাধ্যমে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নানা প্রতিকূলতা, নির্যাতন ও কারাবরণের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, দলীয় নেতৃত্বের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলেই দেশের জন্য নতুনভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়নমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিতদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, লালমনিরহাটকে সামাজিকভাবে আরও সমৃদ্ধ ও নিরাপদ জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে মাদক, জুয়া ও যৌতুকের মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, সামাজিক অপরাধ দমনে কেবল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় তিনি আরও বলেন, সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা প্রদানসহ বিভিন্ন উদ্যোগ চালু হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ উদ্যোগের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আন্দোলনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল, লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য হাসান রাজিব প্রধান, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম মমিনুল হকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের নেতৃত্বে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয় বলে জানা গেছে। শোভাযাত্রাটি এমটি হোসেন মাঠ থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিশন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো উত্তরাঞ্চলের মানুষের কাছে দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ দাবি। এ ধরনের কর্মসূচি ভবিষ্যতে স্থানীয় উন্নয়ন ও জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।



