
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর পুরান পল্টন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাতে বসবাস করা এক অসহায় নারী ও তার শিশুসন্তানকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) তিনি ওই নারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার বর্তমান জীবনযাত্রা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন বলে জানা গেছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই নারীর নাম মুক্তা বেগম। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে রাজধানীর ফুটপাতে বসবাস করছেন এবং তার ছোট সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর লুৎফুজ্জামান বাবর সেখানে উপস্থিত হয়ে তার সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।
লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, মুক্তা বেগমের বাড়ি তার নির্বাচনী এলাকা নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে। তিনি আরও বলেন, একজন অসহায় নারী ছোট সন্তানকে নিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন—এমন তথ্য জানার পর তিনি সরাসরি তার সঙ্গে দেখা করতে যান। পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর তিনি ভবিষ্যতে তার পুনর্বাসনের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার ইচ্ছার কথা জানান।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, মোহনগঞ্জ এলাকায় মুক্তা বেগমের জন্য একটি ছোট জায়গায় বাড়ি নির্মাণের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি তার ছোট ছেলের দায়িত্ব নেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তবে সবচেয়ে আগে ওই নারীর জন্য একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি। তার মতে, স্থায়ী আয়ের সুযোগ তৈরি হলে পরিবারটির জীবনযাত্রার উন্নতি সম্ভব হবে।
এদিকে মুক্তা বেগম বলেন, তিনি বহু বছর ধরে দুই ছেলে ও এক মেয়ের পরিবার নিয়ে নানা কষ্টের মধ্যে জীবন পার করছেন। বর্তমানে তার সঙ্গে ছোট ছেলে রয়েছে। তিনি দাবি করেন, নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক সময় সন্তানকে হারানোর আশঙ্কায় ঘুমানোর সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।
মুক্তা বেগম আরও বলেন, লুৎফুজ্জামান বাবর তার পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। এজন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তার মঙ্গল কামনা করেন।
জানা গেছে, মুক্তা বেগমের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায়। তার এক মেয়ের বিয়ে হয়েছে এবং বড় ছেলে মাদকাসক্ত বলে দাবি করা হয়েছে। বর্তমানে ছোট ছেলেকে নিয়েই তার জীবনসংগ্রাম চলছে।
সামাজিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজধানীতে অনেক অসহায় মানুষ বছরের পর বছর ফুটপাত বা উন্মুক্ত স্থানে বসবাস করেন। তাদের পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে এমন মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
তবে লুৎফুজ্জামান বাবরের দেওয়া আশ্বাসগুলো বাস্তবে কীভাবে এবং কবে বাস্তবায়ন হবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে।