
ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় পর্যায়ের দুই নেতাসহ মোট নয়জনের বিরুদ্ধে হামলা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগে এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের নামও রয়েছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগটি দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৮ জুলাই কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জুলাই আন্দোলনের শহীদ রিপন শীলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ, শোকসভা এবং আলোচনা সভায় অংশ নিতে যাওয়ার আগে হবিগঞ্জ পৌরসভার কোর্ট মসজিদের সামনে অবস্থান নেন।
অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, ওই সময় এনসিপির নেতাকর্মীদের একটি দল সেখানে উপস্থিত হলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে পাল্টাপাল্টি স্লোগান শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং একাধিক দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সংঘর্ষ চলাকালে দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও ইটের টুকরো ব্যবহার করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে মাহফুজ চৌধুরী ও মোজাক্কির হোসেন ইমনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, সংঘর্ষের সময় কয়েকজনের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শেষ হয়নি।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের তথ্য তদন্ত ও যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সেটি মামলা হিসেবে রুজু করা হবে বলেও তিনি জানান।
এদিকে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
উল্লেখ্য, এ ঘটনায় তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তাই অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা দায় নির্ধারণের আগে তদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।