
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সাবেক আইন উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। ওই পোস্টে তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও নির্দিষ্ট কিছু জাতীয় ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রয়োজন রয়েছে।
বুধবার প্রকাশিত ফেসবুক পোস্টের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, নিজেদের মধ্যে মতবিরোধ বা রাজনৈতিক বিতর্ক থাকতেই পারে। তবে শেখ হাসিনাকে ঘিরে যে রাজনৈতিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে আপসের সুযোগ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে তিনি প্রয়োজন হলে আবারও রাজপথে নামার ইঙ্গিত দেন এবং নিজেও আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
পোস্টে আওয়ামী লীগের অতীত ও বর্তমান রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও মন্তব্য করেন আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, দলটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়েছিল—এ বিষয়টি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে জনরোষের মুখে দলটিকে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তর দলটির নিজস্বভাবে খুঁজে দেখা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের মধ্যে আত্মসমালোচনার সংস্কৃতি দুর্বল এবং ক্ষমতা ব্যবহারের ক্ষেত্রে দলটি অতীতে এমন কিছু কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছে, যা জনমনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। যদিও এসব বক্তব্য তার ব্যক্তিগত মতামত হিসেবেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
আসিফ নজরুল আরও বলেন, দেশের অন্য রাজনৈতিক দলগুলোরও নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে তার দাবি, ক্ষমতার ব্যবহার ও রাজনৈতিক আচরণের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যে ধরনের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে উঠে এসেছে, সেই মাত্রার অভিযোগ অন্য দলগুলোর বিরুদ্ধে তিনি দেখেননি।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এতে কেউ রাজনৈতিকভাবে উৎসাহিত হতে পারেন। তবে তার মতে, অতীতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার অভিযোগের বিচার নিশ্চিত না হলে আন্দোলনের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে তিনি নিজেও রাজপথে নামবেন বলে উল্লেখ করেন।
পোস্টের শেষাংশে তিনি আরও বলেন, ভয়ভীতি প্রদর্শন করে কোনো অবস্থান পরিবর্তন করানো সম্ভব নয়। তিনি দাবি করেন, মৃত্যুভয়কে অতিক্রম করেই তারা তাদের অবস্থানে রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, শিশু ও তরুণদের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে রয়েছে, তাদের প্রতি তিনি কোনো ধরনের ভয় বা ক্ষমার মনোভাব পোষণ করেন না। তার ভাষায়, জুলাই তাদের জন্য নতুন এক চেতনার প্রতীক হিসেবে কাজ করছে এবং এই অবস্থান ভবিষ্যতেও বহাল থাকবে।