
ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে আমন্ত্রণ জানানোকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ উঠেছে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির নেতারা অনুষ্ঠানটি বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) সরাইল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ওই আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, সামাজিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, জনগণের ভোটে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা হিসেবে বিষয়টি সবাইকে মেনে নিতে হবে। তার দাবি, ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হওয়ায় জনগণের রায়কে সম্মান জানানো উচিত।
এ সময় শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, বর্তমান সময়ে শুধু প্রচলিত গণমাধ্যমই তথ্যের একমাত্র মাধ্যম নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কারণে যে কেউ ইচ্ছা করলে বক্তব্য শুনতে পারেন। তিনি আরও বলেন, অতীতেও রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞার ঘটনা ঘটেছে বলে তার দাবি।
অন্যদিকে, সরাইল উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিসুল ইসলাম ঠাকুরের বক্তব্য অনুযায়ী, রুমিন ফারহানা বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ায় তাকে প্রধান অতিথি করা হয়েছে—এ কারণেই তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ সিদ্ধান্তের পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল না।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। এক পক্ষের মতে, প্রশাসনের অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে জনপ্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো স্বাভাবিক বিষয়। অন্যদিকে, বিরোধী মতামতও সামনে এসেছে, যেখানে অভিযোগ করা হচ্ছে যে এমন সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠান বয়কটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পৃথক কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতে এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেদিকে নজর রয়েছে।