
ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। ব্যক্তিগত একটি ছবি ও অভিজ্ঞতা নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে প্রকাশের পর সেটি শেয়ার করে অশালীন ও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষক।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, এর আগে ১৭ আগস্ট নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অধ্যাপক মোনামী। তাঁর দাবি, তিনি যে ছবি ও লেখাটি প্রকাশ করেছিলেন, সেটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার অংশ এবং এর সঙ্গে রাজনীতি বা কোনো জাতীয় ইস্যুর সম্পর্ক ছিল না।
ফেসবুক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর ব্যক্তিগত ছবি শেয়ার করে একটি ‘অশোভন ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ’ পোস্ট দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের আচরণের জন্য তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের প্রতি ইঙ্গিত করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে তাঁর অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
নিজের পোস্টে ওই শিক্ষক আরও দাবি করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিতে বিভিন্ন পক্ষের কর্মকাণ্ড তিনি দীর্ঘদিন ধরে পর্যবেক্ষণ করছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একজন শিক্ষক হিসেবে অনেক বিষয় তিনি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে একজন মানুষ হিসেবে এ ধরনের ঘটনায় কষ্ট পাওয়া স্বাভাবিক বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অধ্যাপক মোনামী আরও প্রশ্ন তোলেন, এ ধরনের পোস্ট করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কী অর্জন করতে চান। দলীয়ভাবে প্রশংসা পাওয়া, নাকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের আলাদা করে তুলে ধরা—এমন নানা প্রশ্নের কথা তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগতভাবে কাউকে আক্রমণ করা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন আচরণ করা কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনে না। পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। ব্যক্তিগত ছবি ও মতামত প্রকাশের পর সেটি কীভাবে অন্যরা ব্যবহার করছেন এবং সেখানে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অশালীন মন্তব্যের সুযোগ তৈরি হচ্ছে কি না—তা নিয়েও বিভিন্নজন মতামত দিচ্ছেন।
তবে অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট পোস্ট, মন্তব্য ও শেয়ারকারীদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। তাই ঘটনাটিকে অভিযোগের পর্যায়েই দেখা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত ছবি বা বক্তব্য প্রকাশের ক্ষেত্রে অন্যের সম্মতি, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং শালীনতা বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া এবং তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো প্রয়োজন।